ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে ক্লিন ফিড
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ১১:৪৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 75

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিধিনিষেধ মেনে কেবল অপারেটররা বিদেশি চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপনমুক্ত (ক্লিন ফিড) সম্প্রচার বন্ধ রেখেছিল দুই সপ্তাহ। এরপর গত ১৫ অক্টোবর ভারতের জনপ্রিয় চ্যানেল ‘জি বাংলা’র সম্প্রচার শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষ থেকে ‘ক্লিন ফিড’ পাওয়ার পর পরীক্ষামূলকভাবে সম্প্রচার শুরু করেছেন বাংলাদেশের পরিবেশকরা। এর একদিন পরই স্টার জলসার সম্প্রচার শুরু হয়। কিন্তু সম্প্রচার শুরু হলেও ক্লিন ফিড শর্ত কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে- জবাব মিলছে না সে প্রশ্নের। কারণ এখনও বিজ্ঞাপন দেখায় ভারতীয় চ্যানেল দুটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিজ্ঞাপন ছাড়া ‘জি বাংলা’ দেখা যাচ্ছে। তবে বিরতিতে অনুষ্ঠানের প্রোমো দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি সিরিয়ালে নিবেদিত পণ্যের বিজ্ঞাপনও দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন বিরতিতে ‘জি বাংলা’র পর্দায় একটি ঘোষণাও দেখা গেছে। তাতে লেখা, ‘সম্মানিত গ্রাহক, বিজ্ঞাপন বিধিনিষেধের জন্য চ্যানেলটি সাময়িক বন্ধ রয়েছে। বিজ্ঞাপন বিরতি শেষে শিগগিরই আমরা মূল অনুষ্ঠানে ফিরে আসছি। আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’ স্টার জলসায় বিজ্ঞাপন বিরতিতেও দেখা যাচ্ছে একই ঘোষণা। কিন্তু ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় জি বাংলা ও স্টার জলসা চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। বিজ্ঞাপন বিরতিতে প্রচার করা হচ্ছে অন্য অনুষ্ঠানের প্রোমো।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের মধ্যে ভারতীয় জি বাংলা ও স্টার জলসা চ্যানেলের জনপ্রিয়তাই বেশি। এই দুটি চ্যানেলের বাংলা সিরিয়ালগুলোর মধ্যে ‘মিঠাই’ ও ‘অপরাজিতা অপু’ জনপ্রিয়তায় শীর্ষে রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের উপজেলা ও থানা পর্যায়ে এই দুটি চ্যানেল বুধবার পর্যন্ত দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন এক দর্শক। তবে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে চ্যানেল দুটি দেখা যাচ্ছে। কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘বিদেশি চ্যানেলের ব্রডকাস্টার যা দেবে আমরা তাই দেখাব। আমরা স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি সিগন্যাল রিসিভ করি। সেটা ডাউনলিংক করে সরাসরি কাস্টমারের কাছে চলে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখনও পরীক্ষা চলছে। দুই-একটা মিসটেক থাকবে। সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কেবল অপারেটর আছে। অনেকে অনেক কিছু জানে না। বিষয়টি জানতে দুই-চার-পাঁচ দিন সময় লাগবে। যারা জানে না তারা টিউনিং করতে পারছে না।’

ক্লিন ফিড নিয়ে এমন জটিলতার সমাধান জানাতে গিয়ে বাংলাভিশনের হেড অব ব্রডকাস্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং একে ফেরদাউছ আহমেদ বলেন, ‘ভারত থেকে চ্যানেলগুলো ক্লিন ফিড করে পাঠালে বিজ্ঞাপন ছাড়া সম্প্রচার করা সম্ভব। যে অবস্থায় জি বাংলার প্রচার আবার শুরু হয়েছে, তাতে কিন্তু আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। তবে সেই নিয়ন্ত্রণ নেওয়াও কিন্তু অসম্ভব নয়। এ জন্য কেবল অপারেটরদের একটি যন্ত্র প্রয়োজন। ওই যন্ত্রের মাধ্যমে ক্লিন ফিড নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু এটি কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে সেটি বলতে পারছি না। কারণ ক্লিন ফিডের ব্যাপারে আমরা এখনও বিদেশি চ্যানেলগুলোর ব্রডকাস্টারদের ওপর নির্ভরশীল।’

এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের দর্শক ৮০ শতাংশ, এর মধ্যে ভারতীয় টেলিভিশনের দর্শক ৬০ শতাংশ। এই তালিকায় বাংলাদেশিদের পছন্দের চ্যানেলের মধ্যে রয়েছে সনি টিভি। এই চ্যানেলটি এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

ক্লিন ফিডের মাধ্যমে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর কোনো বিজ্ঞাপন বাংলাদেশের দর্শক দেখতে পারবে না। এমন শর্তেই জি বাংলার সম্প্রচার শুরু হলেও প্রথম দিন সেখানে একটি প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। আর এ নিয়ে সৃষ্টি হয় সংশয়। এ বিষয়ে ‘জি বাংলা’র পরিবেশক মিডিয়া কেয়ার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রমীত রেজার সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবারই বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। এ বিষয়ে এখনই কথা বলতে চাননি রেজা।

কেবল অপারেটর ও পরিবেশকরা জানান, আইন মেনে বিদেশি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করতে চান তারা। এ জন্য কয়েক মাস সময় লাগবে। তবে ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারের বিষয়ে কঠোর রয়েছে সরকার।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ডাউনলিংকের অনুমতি নিয়ে চারটি পরিবেশক কোম্পানি বিশে^র বিভিন্ন দেশের ৬০টির মতো টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার করে আসছিল। এর মধ্যে রয়েছে মিডিয়া কেয়ার লিমিটেড, বেঙ্গল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নেশনওয়াইড মিডিয়া, জাদু ভিশন ও ওয়ান অ্যালায়েন্স।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:   ক্লিন ফিড  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]