ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

গৃহপালিত পশুপাখির যত্নের প্রয়োজন
সাঈমা আক্তার
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ১০:৩৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 202

শখ থেকেই অনেকে পোষেণ প্রাণী। এ প্রাণীটি একসময় হয়ে ওঠে সব সময়ের সঙ্গী। তাই প্রাণীর রোগশোকের বিষয়টিও বুঝতে হবে আপনাকেই। সেই সঙ্গে নিতে হবে তার পরিপূর্ণ যত্ন। গৃহপালিত জীব নিয়ে আমাদের অনেকেরই কিছু ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে। তবে আমার অনেক পরিচিত লোকজন আছেন যারা কুকুর, বিড়াল কিংবা পাখি পোষেণ, তাদের কাছেই শুনেছি যে তারা তাদের পোষা প্রাণীটা ছাড়া জীবন কাটাবার কথা ভাবতেই পারেন না।

যাদের বাড়িতে পশুপাখি নেই তারা হয়তো যাদের বাড়িতে কুকুর, বিড়াল কিংবা পাখি আছে তাদের আবেগটা সম্পূর্ণ বুঝতে পারবেন না। তবে এই কথাটা ঠিক যে এদের পোষার অনেক ভালো দিক আছে, বিভিন্ন গবেষণাও তেমনটাই বলছে। এরা আমাদের একাকিত্ব ও মানসিক গ্লানি বা অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে। পশুপাখি যেমন আদর ভালোবাসে এবং বোঝে, এরা আদর করতেও জানে। এদের আনুগত্য ও বন্ধুত্ব নিয়ে বিভিন্ন সিনেমায় হয়েছে, বইও লেখা হয়েছে। তাই এরা সঙ্গী বা বন্ধু হিসেবে খুব ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে বিদেশে ডাক্তারা এখন বাড়িতে পশুপাখী পোষার পরামর্শ দেন। যেসব বাড়িতে বাচ্চা আছে সেখানে যদি কোনো জীব থাকে তাহলে এদের সঙ্গে খেলাধুলার মাধ্যমে বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ ঘটে। তা ছাড়া এদের সঙ্গে সময় কাটানোর ফলে একটি বাচ্চার মধ্যেও একটা সহজাত আন্তরিকতা ও আনুগত্যের প্রকাশ ঘটে। এদের নিয়মিত টিকা দেওয়ানো উচিত। এই তো গেল পশুপাখি বাড়িতে পোষার কিছু ভালো দিক। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে বাড়িতে পশুপাখি পোষার ফলে বাড়ির সদস্যরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। আমার ঠিক যেমনভাবে নিজেদের পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখি ঠিক একইভাবে গৃহপালিত পশু-পাখিদের সবসময় পরিষ্কারভাবে রাখতে হয় না হলে তাদের যেমন বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেবে বাড়ির সদস্যদেরও নানা শারীরিক সমস্যাও হতে পারে।

কুকুরদের কেনেল বা ঘরটাকে রোজ পরিষ্কার করতে হবে। তাদের যে খাবার দেওয়া হয় সেটাও পরিষ্কার করেই রান্না করতে হবে। এরা যে পাত্রে খায় খাওয়া হয়ে গেলে সেটা ভালো করে মেজে-ধুয়ে রাখতে হবে। এদের লোম থেকে শ্বাসকষ্টের মতো বিভিন্ন অন্য রোগও হতে পারে। এদের থেকে নিওমোকোনিয়োসিস হতে পারে। শ্বাসের ভেতরে লোমের টুকরো চলে গিয়ে একটা ফাইব্রোসিস তৈরি করে একেই নিওমোকোনিয়োসিস বলা হয়।

মানুষের দেহে যেমন উকুন থাকে ঠিক তেমনভাবেই এদের দেহেও উকুন থাকে যার থেকে নানারকম ব্যাকটেরিয়াল বা ভাইরাল রোগ ছড়াতে পারে। আমরা জানি ইঁদুরের গায়ের পোকার থেকে প্লেগ হয়। তাই এদের লোম পরিষ্কার রাখতে হবে সবসময়। আমরা অনেক সময় দেখেছি যে এদের সঙ্গে অনেকে ও বাচ্চারা মুখে মুখ লাগিয়ে আদর করেছেন। ফলে আচমকাই এরা কামড়ে বা আঁচড়ে দিতে পারে। আমার আমাদের হাসপাতালে প্রায় প্রত্যেকদিন এ ধরনের রোগীদের পাই যারা হয়তো কোনো কুকুর কিংবা বেড়ালকে আদর করতে গিয়ে পশুটি তার চোখ কিংবা নাক খুবলে দিয়েছে বা আঁচড়ে দিয়েছে। পাখির থেকে প্যারট ফিভার হয়। কোনো ব্যক্তিকে যদি এরা আঁচড়ে কিংবা কামড়ে দেয় তাহলে দু ক্ষেত্রেই রেবিসের ইনজেকশন নিতে হবে। কুকুরকে রেবিসের টিকা দেওয়া হলেও তারা এর বিরুদ্ধে কতটা সুরক্ষিত হয় সেটা নিয়ে কিন্তু যথেষ্ট সন্দেহ আছে। সুতরাং যেসব কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছে এমন কুকুর যদি মানুষকে কামড়ায় তাহলে কিন্তু আমাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। সাধারণ মানুষের একটা ভুল ধারণা রয়েছে যে, বিড়াল থেকে ডিপথেরিয়া রোগটি হয় কিন্তু বিড়াল থেকে আদৌ এই রোগটা হয় না। এটা একটা মিথ বই আর কিছুই নয়। পশুপাখির থেকে যেসব রোগ মানুষের আসে সেগুলোকে জেনেটিক রোগ বলা হয়, যেমন রেবিস, শ্বাসকষ্ট, লেপ্টোস্পাইরোসিস কিংবা রিং ওয়ার্মের (চুলকানি) মতো অসুখ।

বিভিন্ন গৃহপালিতের থেকে বিভিন্ন রোগ হতে পারে, যেমন কুকুর ও বিড়াল থেকে হয় রেবিস, আবার শুয়োর থেকে সোয়াইনফ্লু হয় এবং পাখির থেকে বার্ডফ্লু, প্যারটফ্লু ও কয়েক ধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন। বাড়িতে যাদের ছোট বাচ্চা আছে তাদের বাচ্চার জন্য দুশ্চিন্তা কোনো কারণ নেই। কারণ পশু বা পাখিকে পরিষ্কার করে রাখলে ও এদের নিয়মিত টিকা দিলেই চলে। তবে লক্ষ রাখতে হবে যেন বাচ্চাটি প্রাণীর সঙ্গে মুখে মুখ লাগিয়ে আদর না করে।

পশুপাখি যেমন আদর ভালোবাসে এবং বোঝে, এরা আদর করতেও জানে। তবে দেখতে হবে এই প্রাণীটি থাকার ফলে বাচ্চার কোনো ধরনের অ্যালার্জি কিংবা শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা। অনেক বাচ্চার অ্যালার্জির প্রবণতা থাকে তখন লক্ষ রাখতে হবে প্রাণীটির থেকে অ্যালার্জিটা আরও বাড়ছে কিনা। কুকুরের লোমের থেকে অনেকের যেমন ডগ ফার অ্যালার্জি হওয়ার প্রবণতা থাকে। অনেক সময় দেখি বাড়ির কুকুর কিংবা বিড়ালকে নিয়ে এক বিছানায় শুচ্ছেন অনেকেই তবে আমি বলব এ ধরনের অভ্যাস না করাই ভালো। এদের নিজেদের একটা নির্দিষ্ট স্থানেই শোয়ার অভ্যাস করানো উচিত। যারা বাড়িতে কোনো পশুপাখি পোষেণ তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে এদের যেন নিয়মিত টিকা দেওয়ানো হয় এবং নির্বীর্য বা স্টেরিলাইজেশন করা হয়। পশুর প্রতি মানুষের আচরণ হওয়া উচিত একজন মানুষের প্রতি মানুষের আচরণ যেমন, ঠিক তেমন। প্রাণীরা আমাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আপনি যদি পশুপাখির প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে পারেন, তা হলে আপনি মানুষের প্রতিও সহানুভূতি দেখাতে পারবেন না। পশুপাখি এত নিষ্পাপ, এত ‘ইনোসেন্ট’, যা আপনি মানুষের মধ্যেও পাবেন না। পশু-পাখি তো কোনো পাপ করতে পারে না। এত নিষ্পাপ প্রাণীর প্রতি যদি আমরা মমতা দেখাতে না পারি, তা হলে মানুষের প্রতি মমত্ব দেখানোর কোনো বিষয় তৈরি হয় না। সারাবিশ্বে স্বীকৃত যে, মানুষের প্রতি মানুষের ‘ভায়োলেন্স’ বা সহিংসতার সূত্রপাত হয় পশুপাখির প্রতি ‘ভায়োলেন্স’ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই একটা রিপোর্ট করেছিল যে, তাদের দেশের অধিকাংশ সিরিয়াল কিলারদের ‘অ্যানিমেল অ্যাবিউজ’ করার ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ আছে। ছোটবেলা থেকে প্রাণীদের ওপর নির্যাতন করার প্রবণতা থাকলে এবং সেটা নিয়ে কেউ যদি কিছু না বলে, তা হলে তারা বড় হয়ে মানুষের প্রতিও অমানবিক আচরণ করে। একটার সঙ্গে অন্যটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ‘অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার’ ছাড়া ‘হিউম্যান ওয়েলফেয়ার’ সম্ভব নয়। একটাকে বাদ দিয়ে একটা করতে হবে, এমনটাও না। সব একসঙ্গে করতে হবে, করা সম্ভবও। আর সেটাই একটা জাতির লক্ষ্য হওয়া উচিত। মানুষ পশুপাখি থেকে নানাভাবে উপকৃত হয়। পৃথিবীকে আবাদ ও প্রাণোচ্ছল রাখতে পশুপাখির সহায়তার বিকল্প নেই। তাই আসুন আর নয় অবহেলা, গৃহপালিত পশুপাখির মানুষ বন্ধু হই, এদের যত্নের প্রতি সবাই সচেষ্ট হই।

লেখক: শিক্ষার্থী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]