ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সহিংস মনোভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে করণীয়
গাজী আনিস
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 102

মানুষের জীবনে সমস্যায় শেষ নেই। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে মানুষ মানসিক অবসাদে ভোগেন। আর অবসাদ হলোÑ রাগের প্রথম কারণ। অতিরিক্ত রাগের বশে অনেকে ভুল কাজ করেন। ফলে মানুষ পরিবার ও সমাজের শান্তির নষ্ট করতেও দ্বিধা করেন না। এসব কারণে অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনেও দুর্দশা নেমে আসে। অপ্রাপ্তি, হতাশা, রাগ ইত্যাদি কারণে এক সময় মানুষ সহিংস হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে ছোট থেকে উচিত এ ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করা।

শৈশবের শুরুতে মানুষের দ্রুততম বিকাশ হয়। ছোট থেকে চেষ্টা করলে একজন মানুষকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়। জন্মের ছয় মাসের মধ্যে মানুষের মস্তিষ্কের অর্ধেক গঠিত হয় এবং আট বছরের মধ্যে মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশ তৈরি হয়। শিশুর বুদ্ধিবৃত্তি, আবেগ, সামাজিক যোগাযোগ ও শারীরিক সম্ভাবনা বিকাশের জন্য এই পর্যায় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার বলেন, মানুষ অনেক বেশি রেগে যায় কারণ, কোনো কারণে যখন তার মধ্যে উদ্বিগ্নতা বেশি হয়ে যায়। সব সময় যদি বেশি উদ্বিগ্নতা থাকে, একটা মানুষ তখন সহিংস হয়ে যায়। চাওয়া পূরণ না হলেও মানুষ উদ্বিগ্ন হয় এবং সহিংস হতে পারে। মাদক গ্রহণের ফলেও অনেকে সহিংস হয়ে ওঠে। অনেকের আগে থেকে বড় ধরনের মানসিক সমস্যায় থাকায় সেও সহিংস হয়ে উঠতে পারে। তবে যারা মানসিক চাপ মোকাবিলা করতে অক্ষম, তাদের জন্য পরামর্শ হলো ছোট থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া। শিশুর মধ্যে যে সহিংস মনোভাব না তৈরি হয় এজন্য ছোট থেকে খেলাধুলার প্রতি তাকে মনোযোগী করে তুলতে হবে। শিশুর রাগকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত না। শিশু যখন ছোট থেকে বায়না ধরে যখন মুহূর্তেই তা পেয়ে যায়, বড় হয়ে এক সময় সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। শিশুর রাগ উপেক্ষা করতে হবে। শিশুর আচরণ কষ্টকর হলে তাকে তা বুঝতে হবে।
 
বড়দের আচরণ শিশুর জন্য রোল মডেল হিসেবে কাজ করে। পরিবারের বড়দের থেকে শিশুর শেখে। পরিবারে যদি সহিংসতা না থাকে শিশু নিশ্চয়ই ভালো মনোভাব নিয়ে বড় হবে। আর বড়দের মধ্যে সহিংসতা দেখা গেলে চেষ্টা করতে হবে শুরুতেই নিজেকে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করা। কেন হচ্ছে সে বিষয়ে খুঁজে বের করতে হবে। সাধারণ রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এক সময় মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে শিশুর যত্ন ও প্রতিপালন বিষয়ে মা-বাবাদের জ্ঞান ও সচেতনতা বেশ সীমিত। ছোট শিশুর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অধিকাংশই জানেন না। জীবনের শুরুর দিকে উৎসাহ জোগানো ও শিক্ষা একজন মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। কথা বলা, পড়া, গান গাওয়া, ধাঁধার সমাধান এবং অন্যদের সঙ্গে খেলাধুলা মনোজগতের সুস্পষ্ট প্রভাব ফেলে। মানুষ ছোট থেকে বড়দের কাজ-কর্ম অনুকরণ করে, বন্ধুত্ব গড়ে তোলে, সমস্যার সমাধান করে। সহিংস মনোভাব থেকে দূরে থাকতে একজন মানুষকে এ ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের অনেক এলাকায় সুযোগ-সুবিধা খুব কম এবং মানসম্মত শিক্ষক ও শিক্ষার পরিবেশ না থাকাটাও একটা চ্যালেঞ্জ। তবে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পারিবারিক শিক্ষা জরুরি। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে। মানুষকে মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

ইংরেজ কবি জন মিল্টন প্রকৃত শিক্ষার বিকাশে ধর্মের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ধর্ম মানুষকে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিহার ও অন্যায়-অবিচার থেকে বিরত থাকতে শেখায়। ধর্ম থেকেও মানুষ সুনীতি ও মানবতাবোধের শিক্ষা পায়। কাজেই শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষারও ব্যবস্থা করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। ধর্মের নামে কোনো কূপমণ্ডূকতা ও গোঁড়ামি যেন তাদের ধর্মীয় উগ্রবাদী কাজের সঙ্গে যুক্ত না করে ফেলে।

যে শিক্ষা মানুষকে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধে তাড়িত করে না, যে শিক্ষা মানুষকে স্বার্থান্ধ ও উগ্র ইন্দ্রিয়সুখে উদ্বুদ্ধ করে, যে শিক্ষা মানুষে মানুষে ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ তৈরি করে, ভালোবাসার পরিবর্তে ঘৃণাকে উসকে দিয়ে সহিংসতার প্রসার ঘটায়Ñ এমন শিক্ষা সুশিক্ষা নয়। আর এ ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষও প্রকৃত নয়, বরং নামে শিক্ষিত। এরূপ শিক্ষিত মানুষ সমাজ-সংসার ও দেশের জন্য উপকারী নয়, বরং ক্ষতিকর। তাই আলোকিত মানুষ হতে হলে নিতে হবে সুশিক্ষা।


আরও সংবাদ   বিষয়:  আচরণ   অবসাদ   হতাশা   রাগ  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]