ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বেপরোয়া মোটরসাইকেল নিরাপদ সড়কের জন্য বড় হুমকি
মো. জিল্লুর রহমান
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১, ৯:৪১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 203

২২ অক্টোবর নিরাপদ সড়ক দিবস। কিন্তু রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মানুষের কাছে নতুন এক আতঙ্কের নাম বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালনা। গত কয়েক বছরে বিশেষ করে অ্যাপসভিত্তিক রাইড সার্ভিস চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন মোটরসাইকেল রাস্তায় নামছে। গ্রামগঞ্জেও অহরহ ব্যক্তিগত বা পেশাদার মোটরসাইকেল চালনা চোখে পড়ছে। শহর ও গ্রামে হাজারো মোটরসাইকেলের কারণে একদিকে যেমন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, তেমনি সড়ক ও ফুটপাথের যাত্রী ও পথচারীরাও বেশিরভাগ সময়ই বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ছেন। মোটরসাইকেলের কারণে রাস্তার চলাচলে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ছেন নারী, শিশু, রোগী ও বয়োবৃদ্ধরা।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের এক প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০২১ সালের জুন মাসে সড়কে ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৭.৯৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৩.৪২ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৯৪ জন পথচারী এবং ৬৭ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক তথ্য বলছে, এবছর লকডাউনের মধ্যে কোরবানির ঈদের ছুটিতে দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭৩ জন নিহত হয়েছেন। জুলাই মাসের ১৪ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত ১৫ দিনের তথ্য সঙ্কলন করেছে সংস্থাটি। এসময়ে সারা দেশে লকডাউন জারি ছিল। তা সত্ত্বেও গত ছয় বছরের মধ্যে দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে ২৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৪৪৭ জন আহত হয়েছেন এবং এর প্রায় ৩৬ শতাংশ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অটোরিকশায়। প্রায় ২৯ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যান।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর সঙ্কলন করে বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই) ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলন। নিসচার হিসাবে, ২০২০ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩,২৩২টি, যার ১,১২৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এর মধ্যে ২৯ শতাংশ ট্রাক ও ২২ শতাংশ বাস দুর্ঘটনা। বুয়েটের এআরআইয়ের হিসাবে, ২০১৬ সালে ২৮৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩৩৬ জন মারা যান। ২০২০ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা দাঁড়ায় ১,০০৮টিতে, মারা যান ১,০৯৭ জন।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাগুলো মূলত ঘটে বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা, বারবার লেন পরিবর্তন, ট্রাফিক আইন না মানা ও চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে। হেলমেট ব্যবহার না করা ও নিম্নমানের হেলমেটের কারণেও দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের এক তথ্য বলছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রায় ৩৫ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। এর মধ্যে রাজধানীর বাইরে থেকে রোগীই সবচেয়ে বেশি আসে। তবে সম্প্রতি রাইড শেয়ারিংয়ে থাকা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত মানুষ আসার সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পর মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট পরার বিষয়ে অনেকের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও অনেকেই আইন মানছে না। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটরসাইকেল চালক হেলমেট পরিধান করলে দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার আশঙ্কা ৪০ শতাংশ হ্রাস পায় এবং মারাত্মক আহত হওয়ার আশঙ্কা ২৫ থেকে ৭৫ শতাংশ হ্রাস পায়। এ কারণে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের নিজেদের জীবন বাঁচাতেই হেলমেট পরিধান আবশ্যক। অনেক সময় চালকরা মোটরসাইকেল চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এমন কারণেও মনঃসংযোগের বিঘ্ন ঘটে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ফুটপাথে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধে উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। উক্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো অবস্থায়ই হাঁটার পথে মোটরবাইক চালানো যাবে না। এ ছাড়া ফুটপাথে মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ৩৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-তে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, আইনগুলো বাস্তবায়ন হলে ফুটপাথে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য অনেকাংশেই কমে যাবে। তুলনায় অধিক গতিতে মোটরসাইকেলসহ সব যানবাহন চালানোকে নিরুৎসাহিত করা জরুরি। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে, যেন অসদুপায় অবলম্বন করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া না যায়। ট্রাফিক পুলিশকে আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তবে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হবে।

লেখক : ব্যাংকার, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা


আরও সংবাদ   বিষয়:  নিরাপদ সড়ক দিবস     




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]