ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সাক্ষাৎকারে নির্মাতা সোহেল রানা
‘অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি’
এসএম আমানূর রহমান
প্রকাশ: রোববার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১, ২:০৫ পিএম আপডেট: ১৭.১০.২০২১ ৪:৪৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 106

‘আমাদের দেশে দুর্দান্ত সব আর্টিস্ট রয়েছেন, তারপরও অ্যানিমেশন মুভি তৈরি করতে গিয়ে শুরুতে আমাকে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।’ কথাগুলো বলছিলেন দেশের প্রথম ফিচার লেন্থ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘মুজিব আমার পিতা’র নির্মাতা সোহেল মোহাম্মদ রানা। সময়ের আলোর সঙ্গে তিনি কথা বলেন বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও চলচ্চিত্র জগতের নতুন এই সংযোজন নিয়ে।

মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রচনা ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মাণে নিজের চ্যালেঞ্জগুলোকে স্মরণ করে রানা বলেন, ‘অ্যানিমেশন বিষয়টি আর্টিস্টদের জন্য খুব কঠিন কিছু নয়। কিন্তু অনেকেই বিষয়টিকে অনেক জটিল বলে মনে করেন। আমরা দুর্দান্ত সব আর্টিস্টদের নিয়ে মাত্র ৩ মাসের প্রশিক্ষণে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছি। আসলে ভয় না পেয়ে কাজে নেমে পড়লেও শিখে নেওয়া যায়।’

ভবিষ্যতে যারা দেশে অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করতে চান তাদের উদ্দেশে সোহেল রানা বলেন, ‘আপনারা যদি অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করতে চান, তাহলে প্রথমেই এ বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। টেকনিক্যাল বিষয়গুলো শিখে নিয়ে বারবার চেষ্টা করে যেতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের আর্টিস্টরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অ্যানিমেটর হয়ে উঠতে সক্ষম।’

তবে এ সময় দেশে অ্যানিমেশন মুভির চর্চা নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। সোহেল রানা বলেন, ‘আসলে অ্যানিমেশন মুভির চর্চার জন্য আমাদের ফান্ডের প্রয়োজন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া দেশের অভ্যন্তরের বাজারের জন্য অ্যানিমেশন মুভি তৈরি করা বেশ রিস্কেরও। আর সে কারণে যেভাবে চলচ্চিত্রের জন্য অনুদান প্রদান করা হয়, একইভাবে অ্যানিমেশন মুভি নির্মাণের জন্যও সুনির্দিষ্টভাবে অনুদান প্রদান করা উচিত। অন্ততপক্ষে বছরে একটি অ্যানিমেশন মুভি নির্মাণের জন্য অনুদানের নিশ্চয়তা থাকলে খুব দ্রুত এটি দেশের নির্মাতাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।’

দেশে প্রথমবারের মতো লং লেন্থের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং তা বড় পর্দায় প্রদর্শনে দারুণ উচ্ছ্বসিত সোহেল রানা বলেন, ‘প্রথমত এমন একটি বিষয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেই আমি গর্বিত। আর বর্তমানে তা বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হচ্ছে। যখন কাজ শুরু করি তখন অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেনি এমন একটি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা শেষ করতে পারব। কেননা দুর্দান্ত আর্টিস্টরা আমাদের সঙ্গে থাকলেও অ্যানিমেশন তৈরির অভিজ্ঞতা তাদের ছিল না। কিন্তু আমরা কাজটি শেষ করতে পেরেছি। এখন বড় পর্দায় চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করা হচ্ছে। যারা এসেছেন প্রত্যেকে প্রশংসা করছেন। আপনি হয়তো দেখেছেন, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক চলচ্চিত্রটি দেখে কেঁদেছেন। একজন দর্শকের মধ্যে এমন অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারাটাই অনেক বড় কিছু আমার জন্য।

বর্তমানে অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করলেও রানা তার ক্যারিয়ার শুরু করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র দিয়ে। ক্লাসের খাতায় জায়গা পেতো বিভিন্ন রঙের মিশেলের চিত্রকর্ম। অষ্টম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় তৈরি করেছিলেন তার প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। আর সে কারণেই যখন সুযোগ হাতছানা দেয়, তিনি সবকিছু ছেড়ে দিয়ে ভর্তি হয়ে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে এ পর্যায়ে আসা।

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রযোজিত এবং সোহেল রানা পরিচালিত অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘মুজিব আমার পিতা’ ১ অক্টোবর থেকে নিয়মিত প্রদর্শন চলছে স্টার সিনেপ্লেক্সে। ১৬ সেপ্টেম্বর চলচ্চিত্রটি সেন্সর ছাড়পত্র পায়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে প্রিমিয়ার শো আয়োজন করা হয়। এদিন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদসহ উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
পরবর্তীতে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় যেখানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

১ অক্টোবর ২০২১ থেকে চলচ্চিত্রটি সারা দেশের বিভিন্ন হলে সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। চলছে ঢাকার বসুন্ধরা সিটি, সীমান্ত সম্ভার, মহাখালী ও মিরপুরের স্টার সিনেপ্লেক্সে, যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাস এবং চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণে সহায়তা করেছে সহযোগিতা করেছে বিএমআইটি সল্যুশনস লিমিটেড এবং প্রোলেন্সার স্টুডিও।

হাংরিনাকির সিএমও মাশরুর হাসান মিম বলেন, ‘দেশের বাজারে অনলাইনে ফুড অর্ডার এবং ডেলিভারি সেবা গত কয়েক বছরে ব্যাপক উত্থান দেখেছে। করোনা মহামারির পর থেকে এই খাতের আরও বিস্তার ঘটেছে। শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশের ৭ হাজারেরও বেশি রেস্তোরাঁর ৩ লাখেরও বেশি ফুড আইটেম সফলভাবে দেশের ২০ লাখ ফুডপ্রেমীদের দোরগোড়ায় যথাসময়ে পৌঁছে দিয়েছে হাংরিনাকি। আমাদের ওপর আস্থা রাখায় গ্রাহকদের অশেষ ধন্যবাদ। আগামী দিনেও ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জনে কাজ করে যাবে হাংরিনাকি।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]