ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বিস্ফোরণের আশঙ্কা বঙ্গোপসাগরে
ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 65

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে গত বছরের আগস্ট মাসে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে লেবাননের রাজধানী বৈরুত বন্দরে। যা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার পর সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ। সঠিক নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই চট্টগ্রাম বন্দরের অদূরে বঙ্গোপসাগরে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে এলপিজি স্থানান্তরে এমন বিস্ফোরণের শঙ্কার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানি সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করা ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ধারণক্ষমতার মাদারভেসেল থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টন ধারণ ক্ষমতার ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। সেসব জাহাজ সীতাকুণ্ড ও মোংলায় এলপিজি প্লান্টে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু অনেক সময় মাদারভেসেল থেকে ছোট জাহাজে স্থানান্তরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছোট আকৃতির এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে স্থানান্তরে সে রকম কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আবার এলপিজি স্থানান্তরের সময় সাগরের পানির ঢেউয়ের ঝাঁকুনিতে যাতে জাহাজের লেবেল ক্ষতিগ্রস্ত না হয় বা দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ না হয় সে জন্য টাগবোট ব্যবহার করার নির্দেশনা রয়েছে। তাও মানা হয় না।

সে সঙ্গে এলপিজি স্থানান্তরের সময় গ্যাসবাহী জাহাজের কমপক্ষে ৪০ মিটারের মধ্যে অন্য কোনো জাহাজ না থাকার সতর্কতা রয়েছে। দুই জাহাজের মাঝখানে ফেন্ডার (বয়ার মতো প্লাস্টিকের স্থাপনা যা পানিতে ভেসে থাকে) দিতে হয়। যা না দিয়েই এলপিজি স্থানান্তর করা হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। আর এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বিস্ফোরক অধিদফতরের নজরদারির কথা থাকলেও তারা তা করে না। এমনকি বন্দর কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে তেমন অবগত নয়। ফলে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এলপিজি স্থানান্তর চলছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে জানতে গত দুদিন ধরে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মুস্তফা খুদরত-ই-ইলাহীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। তবে বিপিসির একটি সূত্র বলেছে, যারা এসব পণ্য পরিবাহিত করবে বিধি অনুযায়ী তারাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তাহলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের। এতে বিপিসির নজরদারির কিছুই নেই।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক এ বিষয়ে সময়ের আলোকে বলেন, সাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে এলপিজি স্থানান্তরে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বন্দর থেকে শিপিং এজেন্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢেউয়ের মধ্যে জাহাজ থেকে জাহাজে এলপিজি স্থানান্তর যাতে না করা হয় তাও বলা হয়েছে।

শিপিং এজেন্টরা বলছেন, জাহাজ থেকে জাহাজে এলপিজি স্থানান্তরে এখনও কোনো নীতিমালা হয়নি। সে সঙ্গে আমরা আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে এখনও যুক্ত হতে পারিনি। বিপরীত দিকে অন্য সাগরের তুলনায় বঙ্গোপসাগরে ঢেউ একটু বেশি। এ অবস্থায় জাহাজ থেকে জাহাজে এলপিজি স্থানান্তর অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে নীতিমালা হলে হয়তো তা ঠিক হয়ে যাবে।

বিস্ফোরক অধিদফতরের চট্টগ্রামের পরিদর্শক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, জাহাজ থেকে জাহাজে এলপিজি স্থানান্তরে অবশ্যই ফেন্ডার ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় ছোট জাহাজটি যেকোনো সময় ডুবে যেতে পারে কিংবা দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। এই পদ্ধতি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়ম না মেনে এলপিজি খাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। যা বৈরুত বিস্ফোরণের মতো হতে পারে।

বিস্ফোরক অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশে গ্যাসের সঙ্কটের কারণে সরকারের ১৭টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি পর্যায়ে এলপিজি আমদানি করে। বছরে প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়। সাধারণত দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৫ থেকে ৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার জাহাজে করে এলপিজি সরাসরি সীতাকুণ্ড ও মোংলার প্লান্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে জাহাজ থেকে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি প্লান্টে প্রবেশ করানো হয়।

বছরে প্রায় ৭০টি জাহাজ গ্যাস সরবরাহের কাজ করে। তবে গত বছর থেকে দুটি মাদারভেসেল একসঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন করে এলপিজি আমদানি করে। দেশে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সিলিন্ডার (এলপিজি) গ্যাসই এখন প্রধান সহায়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]