ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

৪০ বছর ধরে পাশাপাশি মন্দির-মসজিদ
ধর্মীয় সম্প্রীতির ছোঁয়ায় সমুজ্জ্বল মানবতা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:১৭ এএম আপডেট: ১৫.১০.২০২১ ২:৩৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 117

ধর্মীয় সম্প্রীতির মাধ্যমে মানবতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরীবাড়ি সংলগ্ন এলাকার মুসলমান ও হিন্দুরা। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে একে অন্যের সহযোগী হয়ে বসবাসের পাশাপাশি নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন তারা। ওই এলাকায় সরেজমিন গিয়ে পাওয়া গেছে চাক্ষুষ প্রমাণ।

প্রায় ৮৯ বছর আগে বাংলা ১৩৩৯ সালে চৌধুরীবাড়িতে প্রতিষ্ঠা করা হয় উঝা ঠাকুর কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির। প্রতিবছরই ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয় দুর্গোৎসব। এর পাশেই মন্দির প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৪০ বছর পর নির্মাণ করা হয় নাগরপুর চৌধুরীবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। একই স্থানে মসজিদ আর মন্দির নিয়ে কখনও কারও কোনো সমস্যা হয়নি। বরং সবাই মিলেমিশে যার যার ধর্ম পালন করছেন নির্বিঘ্নে। এভাবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে পৃথক দুটি ধর্মীয় উপাসনালয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা। উলুধ্বনি চলছে পূজামণ্ডপে, চলছে গান-বাজনা। দর্শনার্থীরা পূর্জামণ্ডপে আসছেন প্রতিমা দেখতে। সেখানে থাকতে থাকতেই দুপুর সোয়া ১টায় থেমে গেল পূজামণ্ডপের সব কার্যক্রম। এরপরই মাইকে বলা হয়, আজান এবং নামাজের পর আবার মন্দিরের মাইক, ঢাক-ঢোলসহ যাবতীয় কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর পাশের মসজিদ থেকে ভেসে আসে জোহরের আজানের ধ্বনি। আজান শেষে শুরু হয় নামাজ। নামাজ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার মন্দিরের মাইকে ভেসে আসে ঢাক-ঢোলের বাদ্য আর উলুধ্বনি।

বৃহস্পতিবার নাগরপুরের চৌধুরীবাড়ি কেন্দ্রীয় মসজিদ ও দুর্গা মন্দিরে সরেজমিন গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

উঝা ঠাকুর কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন কুমার সাহা পোদ্দার জানান, ৮৯ বছর আগে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪০ বছর পর এখানকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন নাগরপুর চৌধুরীবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। সম্প্রীতি বজায় রেখে তখন থেকেই নির্বিঘ্নে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম।

তিনি জানান, আজানের সময় থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের মাইক, ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনিসহ যাবতীয় শব্দ বন্ধ থাকে। নামাজ শেষ হলে মন্দিরের কার্যক্রম আবার শুরু করা হয়। এখানকার সব ধর্মের মানুষজন শান্তিপ্রিয়। কোনোদিন কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে।

নাগরপুর চৌধুরীবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা খন্দকার কামরুল হুদা রওশন জানান, মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৮৪ সালের পর। এরও প্রায় ৩৯ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা হয় উঝা ঠাকুর মন্দির। চার দশক ধরে চলছে একই স্থানে নামাজ ও পূজা অর্চনা। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাক-ঢোলসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই চার দশক ধরে এ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন এলাকার হিন্দু-মুসলমানরা। এখানকার দুই ধর্মের মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয়। তারা সব কাজেই একে অন্যকে সহযোগিতা করে থাকেন সবসময়।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]