ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

গ্রাহকের টাকা গ্রাহককেই দিত রিং আইডি
মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ২:৫২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 107

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সাইট তৈরি করে ফ্রি চ্যাটিং, কলিং ও ভিডিও দেখলেই ডলার আসবে এই প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহক আকৃষ্ট করত রিং আইডি। এ ছাড়াও রিং আইডিতে অ্যাকাউন্ট কিনে আইডি খুললে শুধু ভিডিও দেখলেই টাকা আর টাকা। এভাবেই প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যক্তি আইডি খুলেছিল। আর গ্রাহকদের কাছে নেওয়া অর্থ আবার গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে পাঠাত রিং আইডি কর্তৃপক্ষ। এতে গ্রাহকরা ভাবত তারা টাকা বিনিয়োগ করে ভিডিও দেখে লাভের টাকা পাচ্ছেন। কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি একটি প্রতারণা।  রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া এক এজেন্টের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

সিআইডির সূত্র জানায়, রিং আইডি কাউকেই কখনও লাভের টাকা দেয়নি। তারা গ্রাহকের কাছ থেকে আইডি খোলা বাবদ ১২, ২২, ২৫ ও ৫০ হাজার করে টাকা নিত। এই টাকা বিভিন্ন গ্রাহককে ভাগে ভাগে দিত। কখনও কাউকে বেশি আবার কাউকে কম। এভাবে কয়েক মাস দেওয়ার পর বলা হতো আপনার আইডিতে সমস্যা আছে। আরেকটা আইডি কিনে নেন। আরও আইডি কিনতে গিয়েই ধরা খেয়ে যেতেন গ্রাহক।

অন্যদিকে সর্বশেষ সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া রিং আইডির এজেন্ট রেদোয়ান শুধু আইডি খুলেই কোটি টাকা হাতিয়েছে। তার হাত ধরেই ছয় শতাধিক মানুষের আইডি খোলা হয়েছে। এসব আইডি খোলা বাবদ সে প্রত্যেকের কাছ থেকে চার প্যাকেজের টাকা নিত। তবে তার লাভ ছিল কেউ রিং আইডিতে আইডি খুললেই সে টাকা পেত। এভাবে অল্প কয়েক বছরে কোটিপতি বনে যায় এই রেদোয়ান। আরও জানা গেছে, রিং আইডি ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা হাতিয়েছে। তারা গ্রাহকের টাকা গ্রাহককেই দিত। বিষয়টি এতদিনেও গ্রাহকরা জানতে পারেনি। তবে রিং আইডির পরিচালক সাইফুলকে গ্রেফতারের পর সে সিআইডিকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

সাইফুল সিআইডিকে জানিয়েছে, তারা শুধু ব্যবসা করার জন্য জয়েন স্টক কোম্পানি থেকে একটি ফরম তুলেছিল। আর সেই ফরম দেখিয়েই তারা এই প্রতারণার ব্যবসা গত কয়েক বছর থেকে চালিয়ে এসেছে। কিন্তু সম্প্রতি কিছু গ্রাহকের টাকা দিতে গিয়ে অনিয়মিত হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ পড়তে থাকে। ফলে বিষয়টি নজরে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে গ্রাহকের মধ্যে ১০ থেকে ২০ শতাংশ গ্রাহক টাকা পেলেও বাকিদের নানা আশার কথা তারা শোনাত তারা।

রিং আইডির সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন কোম্পানি খুলবেন, সেখান থেকেও বিনিয়োগকারীরা অর্থ ও লভ্যাংশ পাবেন নানা চটকদার বার্তা ও কথা শুনিয়ে গ্রাহকদের ধরে রাখতেন দুই ভাই ও ভাবি। সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেন, রিং আইডি হাওয়ার ওপরে ব্যবসা করেছে। তারা গ্রাহকের টাকা গ্রাহককেই দিয়েছে। তবে বিষয়টি জানা সম্ভব হতো না যদি সাইফুলকে গ্রেফতার না করা হতো। তাকে গ্রেফতারের পর সেই জানিয়েছে, ভিডিও দেখে টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য তারা যা বলত সব ভুয়া। তারা মূলত কোনো গ্রাহক যখন আইডি খুলত সেই টাকা তারা নিয়ে আবার অন্য গ্রাহককে দিত। এভাবেই বছরের পর বছর চলছিল তাদের প্রতারণা। তবে টার্গেট ছিল আরও কিছু টাকা নিয়ে সাইফুলও বিদেশ পালিয়ে যাবে। কেননা তার ভাই ও ভাবি কানাডায় সেটেল। তাদের কাছে গিয়ে সেও আশ্রয় নেবে। আরেক কর্মকর্তা জানান, সাইফুল পালিয়ে যাওয়ার আগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা দুই ভাই ও ভাবি মিলে কতটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাচার করেছে তা আমরা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছি। চিঠির জবাব পেলেই বোঝা যাবে তারা কত টাকা পাচার করেছে।

সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম সময়ের আলোকে বলেন, তারা গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ পাচার করেছে কিনা তা জানার জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠি দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় আমরা আছি।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  রিং আইডি  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]