ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

লোডশেডিংয়ে নাকাল চট্টগ্রামবাসী
ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ২:২২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 58

শরতের এই দিনে শীত অনুভূত হওয়ার কথা। কিন্তু উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে উল্টো তীব্র গরমে পুড়ছে চট্টগ্রামের মানুষ। এরই মধ্যে একটানা আধা ঘণ্টা সময়ও পাওয়া যাচ্ছে না বিদ্যুৎ। এই আসে তো, এই যায়। এমন অবস্থা চলছে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা। গত ১৫ দিন ধরে চলছে বিদ্যুতের এই খামখেয়ালি, যা বলার জায়গাও নেই নগরবাসীর।

নগরবাসীর অভিযোগ, ফোন করলেও পাওয়া যায় না বিদ্যুৎ অফিসের কাউকে। এক অফিসে গেলে বলে আরেক অফিসে যেতে। বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বুধবার সকালে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও বহদ্দারহাট মোড়ের ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ।

শুধু চান্দগাঁও নয়, নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, সদরঘাট, ফিরিঙ্গিবাজার, পাঁচলাইশ, নাসিরাবাদ, ষোলশহর, ডবলমুরিং, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ ৪১টি ওয়ার্ডের সবখানে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কথা জানান নগরবাসী।

এর মধ্যে চকবাজার এলাকার অভিজাত রেস্টুরেন্ট কাশবনের স্বত্বাধিকারী কফিল উদ্দিন বলেন, গত চার-পাঁচ দিন ধরে এই শরতেও তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে চট্টগ্রামে। তারও ১০-১১ দিন আগে থেকে বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হয়। যদিও সারা বছর দিনে ২-৩ বার লোডশেডিং করা হতো। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের লোডশেডিং অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে। করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকার পর এখন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে বেচাকেনা হচ্ছে খুবই কম। সেই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে বৈদ্যুতিক উপকরণও।

নগরীর বাকলিয়া এলাকার গৃহিণী হনুফা বেগম বলেন, সকাল নেই, বিকাল নেই রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের আসা-যাওয়া। একটানা আধা ঘণ্টাও থাকে না বিদ্যুৎ। ভোরেও ঘুমানো যায় না। দিন যায় গরমে পুড়ে। গরমে ঘেমে আমার বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়ে গেছে। দেশে এত বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা শুনি, তারপরও কেন এত লোডশেডিং।

নগরবাসীর ভাষ্য, গত দুই সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামজুড়ে রেশনিং পদ্ধতিতে ঘণ্টায় ২-৩ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়াকে লোডশেডিং মানতে নারাজ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) কর্মকর্তারা। বিউবো চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান সামিনা বানু এ প্রসঙ্গে বলেন, নগরীতে কোনো লোডশেডিং নেই। পুরনো সঞ্চালন লাইন অতিরিক্ত লোড নিতে পারছে না। এ কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে ফোর্সশেডিং করতে হচ্ছে। এ ছাড়া ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের কারণে আগ্রাবাদসহ নগরীর অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

একই কথা কালুরঘাট বিক্রয় বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস ইবনে আলমের মুখেও। তিনিও আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানান। ষোলশহর বিক্রয় বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী নুর উদ্দীন, নিউমুরিং বিক্রয় বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামিরসহ একাধিক প্রকৌশলীও সরবরাহ লাইনের ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা বলেন।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সরবরাহ নয়, বন্ধ আসা-যাওয়া। এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই বলে এড়িয়ে যান প্রকৌশলীরা। লোডশেডিংয়ের কোনো তথ্যও নেই বিদ্যুৎ বিক্রয় বিতরণ বিভাগের কোথাও।

তবে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের বিষয়টি উঠে আসে সরবরাহ ও চাহিদার তথ্য থেকে। বিউবোর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত ১২ অক্টোবর পিক আওয়ারে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৬৬৬ মেগাওয়াট। বিপরীতে চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ২৩ বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৫২৯ মেগাওয়াট। অথচ এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পিক আওয়ারে ২ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।

দৈবচয়ন ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জোনের কয়েকটি উপকেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিতরণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বুধবার পিডিবির আগ্রাবাদ উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১৭ মেগাওয়াট, চাহিদা ছিল ৪০ মেগাওয়াট। মাদারবাড়ী উপকেন্দ্রে সরবরাহ ছিল ৯ মেগাওয়াট, চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। জালালাবাদ উপকেন্দ্রে সরবরাহ ছিল ১৫ মেগাওয়াট, চাহিদা ২৬ মেগাওয়াট। পাথরঘাটা উপকেন্দ্রে সরবরাহ ছিল ১৬ মেগাওয়াট, চাহিদা ২৯ মেগাওয়াট। বাকলিয়া উপকেন্দ্রে সরবরাহ ছিল ১২ মেগাওয়াট, চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। নিউমুরিং উপকেন্দ্রে সরবরাহ ছিল ১০ মেগাওয়াট, চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। রামপুর উপকেন্দ্রে সরবরাহ ছিল ৯ মেগাওয়াট, চাহিদা ছিল ১৬ মেগাওয়াট। এভাবে সবকটি উপকেন্দ্রে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল কম। ফলে লোডশেডিং হচ্ছে চট্টগ্রামজুড়ে।

বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক লীগ নেতা কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, দেশের বাণিজ্যনগরী চট্টগ্রাম। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, ইপিজেড, কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরী, নাসিরাবাদ, বায়েজিদ, সদরঘাট ও কর্ণফুলী শিল্প এলাকা হচ্ছে পুরো দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। আগ্রাবাদ হচ্ছে অর্থনীতির মূল সঞ্চালন কেন্দ্র। সব কোম্পানির করপোরেট অফিস, ব্যাংক, সিঅ্যান্ডএফ এবং বন্দরের একটা অংশ এখানে অবস্থিত। তবু চট্টগ্রামের প্রতি এত অবহেলা কেন?

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকে না। এতে নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব অবকাঠামো প্রায় ধ্বংসের পথে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে চট্টগ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  লোডশেডিং  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]