ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুম আতঙ্ক!
আমিরুল ইসলাম মো. রাশেদ, কক্সবাজার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ২:১৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 64

উখিয়া-টেকনাফে হঠাৎ করে অপহরণ ও গুম আতঙ্ক বাড়ছে। ক্যাম্পজুড়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের তৎপরতা ও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে এমন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয় ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে। যদিও মুহিব্বুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর প্রশাসন একটু নড়েচড়ে বসলেও গত কয়েক মাসে জেলাজুড়ে বেশ কয়েকটি অপহরণের ঘটনায় এই আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া অপহরণের শিকার সবাইকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জানা যায়, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছে জেলা সদরসহ সবখানে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এ দেশে খুন-খারাপি করে ঘুমধুম সীমানা হয়ে মিয়ানমারে চলে যায়। গত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ২৫ জন অপহরণের শিকার হন। তাদের কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টের শেষদিকে, শহরের কলাতলী থেকে অপহৃত হয় সাত বছরের শিশু শাহিনা আক্তার আঁখি। তাকে ২৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করেন এপিবিএন সদস্যরা। একই মাসে মহেশখালী থেকে অপহৃত কিশোর মোহাম্মদ মোজাহিদ মিয়াকে কুতুপালং ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তা ছাড়া ওই মাসের প্রথমদিকে আবু  সৈয়দ প্রকাশ আবদুল্লাহ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে পাহাড়ি ছড়ায় পাওয়া যায়। একই সঙ্গে জেলার উখিয়া, টেকনাফ ও চশরিয়া থেকে অপহৃতদের ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্প উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ শ্রমিক ও নিম্ন শ্রেণির খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকও আছে এ তালিকায়।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সময় যত গড়াচ্ছে, ৩৪টি ক্যাম্প ঘিরে রোহিঙ্গাদের অপরাধপ্রবণতাও তত বাড়ছে। খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক পাচার ছাড়াও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার মাত্রা গত চার বছর ধরে ক্রমাগত বাড়ছে তাদের ভেতর। ২০১৭ সালে নানা অপরাধে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ছিল ৭৬টি, আসামি ছিল ১৫৯ জন রোহিঙ্গা। অথচ চলতি বছর ৮ মাসেই ৫৮০টি মামলায় রোহিঙ্গা আসামির সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। জেলায় বিভিন্ন অপরাধজনিত কারণে বর্তমানে কক্সবাজার কারাগারে রয়েছে সাড়ে চার শতাধিক রোহিঙ্গা। মাদক পাচারের মতো অপরাধে জড়িয়ে এদের অনেকে বিপুল অর্থসম্পদের মালিকও হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাদের বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। তাদের একটি অংশ টার্গেট করে, আরেকটি গ্রুপ অপহরণ করে এবং খুন-খারাপি করে আরেকটি মুক্তিপণের টাকা আদায় করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের এখন থেকে আরও কঠোর না হলে ওই অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে বলে জানান উখিয়ার পালংখালীর চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর।

জেলা পুলিশের তথ্যমতে, গত চার বছরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ১২ ধরনের অপরাধে ১২৯৮টি মামলা হয়েছে।

এতে আসামি হয়েছেন ২ হাজার ৮৫০ রোহিঙ্গা। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে- ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অস্ত্র ও মাদক পাচার, মানবপাচার, পুলিশ আক্রান্ত ইত্যাদি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭০টি খুনের মামলা হয়েছে গত চার বছরে। এই সময় ৭৬২টি মাদক, ২৮টি মানবপাচার, ৮৭টি অস্ত্র, ৬৫টি ধর্ষণ ও ১০টি ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে। ৩৪টি মামলা হয়েছে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অপরাধে। অন্যান্য অপরাধে হয়েছে ৮৯টি মামলা।

২০১৭ সালে নানা অপরাধে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ছিল ৭৬টি। আসামি ছিল ১৫৯ জন। ২০১৮ সালে ২০৮ মামলায় আসামি ৪১৪ জন। ২০১৯ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬৩টি। যার আসামি ৬৪৯ জন। ২০২০ সালে ১৮৪ মামলায় হয়েছে ৪৪৯ আসামি। চলতি বছরের ৮ মাসেই ৫৮০টি মামলায় রোহিঙ্গা আসামির সংখ্যা ১ হাাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে একটা কথা প্রচলিত আছে, ক্যাম্প দিনের বেলায় বাংলাদেশের আর রাতের বেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর। এটা এখন ওপেন সিক্রেট। কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ চায় না যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাক। তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে নিতে চায়।

নির্মাণশ্রমিক আল আমিন জানান, সন্ধ্যা হলে পুরো ক্যাম্প অরক্ষিত হয়ে উঠে। তখন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বিরাজ করে। তাই এসবে নজরদারি বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
হ্নীলার রঙ্গিখালীর স্থানীয় বাসিন্দা ছন ব্যবসায়ী আমিন বলেন, সম্প্রতি অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কারণে তার শ্রমিকরা পাহাড়ে ছন কাটতে ভয়ে যায় না। তিনি স্থানীয়দের ভয় দূর করতে র‌্যাবের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।

উখিয়ার থ্যাইকংখালীর বাদশা জানান, স্থানীয়রা আগে গরু-ছাগল চড়ানোর জন্য পাহাড়ে যেত। এখন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অপহরণ ভয়ে তারা গরু-ছাগল চড়ানোর জন্য যায় না। সম্প্রতি মুহিব্বুল্লাহ হত্যার পর স্থানীয়দের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, রোহিঙ্গা ডাকাতদের আতঙ্কে পর্যটনের সম্ভাবনাময় পাহাড়ি ঝরনা স্বপ্নপুরী আর নিরাপদ নয়। তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মাসিক মিটিংয়ে একথা তুলে ধরেছেন বলে জানান।

১৪ এপিবিএন পুলিশের এসপি মো. নাইমুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি অতীতের তুলনায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যাও হয়েছে বলে জানান। কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ওপর পুলিশ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]