ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

গাজায় পানির জন্য হাহাকার
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ১:৪৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 104

ইসরাইল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি। বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে প্রায়ই সরকারি পানি পাওয়া যায় না। যতটুকু পাওয়া যায় তাও বিশুদ্ধ থাকে না বেশিরভাগ সময়। তাই বেসরকারিভাবে পানি কিনে খেতে হচ্ছে গাজাবাসীকে। গাজা উপত্যকার পানি অনেক বেশি দূষিত, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর। তারা বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ইসরাইলের অবরোধ, মানবিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়া এবং ক্রমাগত বিমান হামলার কারণে গত কয়েক বছরে পানির এই সঙ্কট তব্র আকার ধারণ করেছে।

আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের ৩৬ বছর বয়সি ফ্যালেস্টিন আবদেলকরিম বলেন, এখানের পানি খাওয়ার উপযুক্ত নয়। মনে হচ্ছে এখানকার পানি সমুদ্র থেকে আসে। এ পানি আমরা রান্না বা গোসলের কাজে ব্যবহার করতে পারি না। পাঁচ সন্তানের মা আবদেলকরিম বলেন, শরণার্থী শিবিরের জীবন খুবই কঠিন। আমরা সবসময় পানি কিনে খাই। গাজা উপত্যকার বাসিন্দারা সপ্তাহে তিনবার পৌরসভার পানি নেওয়ার অনুমতি পায়। তাও সেটি সুয়েজ লাইনের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে খাওয়ার যোগ্য থাকে না বেশিরভাগ সময়। গাজা উপত্যকায় অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পানি পরিশোধন করে বিক্রি করে। প্রতি ১ হাজার লিটারের দাম পড়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০০ টাকার মতো।

উত্তর গাজার বাসিন্দা মোহাম্মাদ সেলিম (৪০) নামে একজন জানিয়েছেন, পানি দূষিত হওয়ার কারণে বাগান বা চাষ করা যাচ্ছে না। পানি অতিরিক্ত লবণাক্ত হওয়ায় সব গাছ শুকিয়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে মিউনিসিপালের পানি পান কিংবা রান্নার কাজে ব্যবহার করতে পারেন না তিনি ও তার পরিবার। তিনি বলেন, পানির কারণে যদি গাছই মরে যায়, তা হলে মানবদেহে কতটা প্রভাব ফেলবে?

মানবাধিকার সংগঠনগুলো গাজা উপত্যকায় পানির খারাপ পরিস্থিতি নিয়ে কয়েক বছর ধরে সতর্ক করে আসছে। গত সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪৮তম অধিবেশনে গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথ এবং ইউরো-মেডিটেরিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর বলেছে, গাজা উপত্যকার পানি পান করা যায় না এবং ধীরে ধীরে মানুষের শরীরকে বিষাক্ত করছে দূষিত পানি।

যৌথ এক বিবৃতিতে তারা বলছে, ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের কারণে গাজায় পানি ব্যবস্থাপনায় চরম অবনতি হয়েছে। এ এলাকার ৯৭ শতাংশ পানিই দূষিত বলে এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানায়, গাজায় বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে পানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুয়েজ লাইনে ৮০ শতাংশ বর্জ্য সমুদ্রে পৌঁছে আর বাকি ২০ শতাংশ থেকে যাচ্ছে পাইপের ভেতরেই।

ইউরো-মেডিটেরিয়ানের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ শেহাদা বলেন, গাজায় ২৫ শতাংশ অসুস্থতরা মূল কারণ পানিদূষণ। সেখানে ১২ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হয় এই দূষিত পানির কারণে। তিনি বলেন, গত মে মাসে গাজায় ১১ দিনের ইসরাইলি অভিযানে পানি কাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজা মিউনিসাপিলিটি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী ওই অভিযানে অন্তত ২৯০টি পানি সরবরাহ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুয়েজ লাইনও নষ্ট হয় এবং রাস্তা নোংরা পানিতে ভরে যায়।

বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, গাজা উপত্যকার পানিতে লবণ ও নাইট্রেটের মাত্রা বিশুদ্ধ পানির তুলনায় অনেক বেশি। সেখানকার অর্ধেক শিশুই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। গাজার পানি বিশেষজ্ঞ রামজি আহেল বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই মারাত্মক। ২০১২ সালে গাজা উপত্যকায় পানি সমস্যা শুরু হয়। সে সময় জাতিসংঘ সতর্ক করে, ২০২০ সালের মধ্যে গাজা উপত্যকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। আর এখন ৯ বছর পর এখানকার পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ।’ তিনি বলেন, এখানে সব উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ। পানি সঙ্কটের কোনো বিকল্প নেই। কোনো নদীও নেই। আর ১৪ বছর ইসরাইলি অবরুদ্ধ থাকায় পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে। রামজি বলেন, গাজাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। ইতোমধ্যে এটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফিলিস্তিন   গাজা  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]