ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

মুদি আর চা দোকানি থেকে মানবপাচার চক্রের হোতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ১:৪১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 38

ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মানবপাচার করে আসছিল সাইফুল ইসলাম ওরফে টুটুল ও তার সহযোগী মো. তৈয়ব আলী। তাদের এজেন্সির কোনো বৈধ লাইসেন্স না থাকায় তারা অন্য বৈধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানবপাচার করে আসছিল। এখন পর্যন্ত ৩০ নারী ও ২০ পুরুষকে বিদেশ পাঠিয়ে তাদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা। এই কাজে জড়িত হওয়ার আগে টুটুল ছিল মুদি দোকানি আর তৈয়ব ছিল চা দোকানি।

মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর বাড্ডা থানার লিংক রোডে অবস্থিত টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজে টানা অভিযানে মানবপাচার চক্রের আট সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-৪ সদস্যরা। অভিযানে দুই নারীসহ চার ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ১০টি পাসপোর্ট, ৭টি ফাইল, ৪টি সিল, ১৭টি মোবাইল, ৫টি রেজিস্টার, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ২টি কম্পিউটার, ৩টি লিফলেট ও নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানান। এ সময় ২৫ জন ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

আটকরা হলো- চক্রের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম ওরফে টুটুল (৩৮), তার সহযোগী মো. তৈয়ব আলী (৪৫), শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন লিমন (৩৮), মো. মারুফ হাসান (৩৭), জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), লালটু ইসলাম (২৮), আলামিন হোসাইন (৩০) ও আব্দুল্লাহ আল মামুন (৫৪)। প্রায় শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, সাইফুল ইসলাম টুটুলের (৩৮) বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কামন্দী গ্রামে। এইচএসসি পাস টুটুল  ছিলেন মুদি দোকানদার। ঢাকায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করত সে। একপর্যায়ে অধিক অর্থ আয়ের লোভে জড়িয়ে পড়ে মানবপাচার চক্রে। তিনি বলেন, শুরুতে চক্রের দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করত টুটুল। পরে নিজেই খোলে তিনটি ওভারসিজ প্রতিষ্ঠান। তবে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের বৈধতা না থাকায় অন্য বৈধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেকার ও শিক্ষিত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে বিদেশে পাচার করে সে। হাতিয়ে নেয় কোটি টাকা।

চক্রের কয়েকজন সদস্য অফিস স্টাফ হিসেবে পরিচয় দিয়ে টার্গেট করা নারী-পুরুষকে বিদেশে পাঠানোর জন্য তাদের পাসপোর্ট করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করত। এতে বিদেশ গমনেচ্ছুদের মনে আর কোনো সন্দেহ থাকত না। পাসপোর্ট অফিসের দালালের সঙ্গেও সখ্য ছিল চক্রের সদস্যদের। কথিত মেডিকেল টেস্ট শেষে নারী ভিকটিমদের বাসাবাড়িতে বিক্রি এবং পুরুষ ভিকটিমদের অমানবিক কাজে নিয়োজিত করার উদ্দেশে সৌদি আরবের জেদ্দা, রিয়াদ, জর্ডান ও লেবাননে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত তারা। ভিকটিমরা বিদেশে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারত না। যাদের বিদেশে পাঠানো সম্ভব হতো না তারা টাকা ফেরত নিতে যোগাযোগ করলে ভয়ভীতি দেখানো হতো।

যেভাবে উত্থান টুটুল ও তৈয়বের : র‌্যাব কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, এইচএসসি পাস টুটুল মেহেরপুরের গাংনী থানার কামন্দী গ্রামে মুদি দোকানদার ছিলেন। মাঝেমধ্যে ঢাকায় আসত। অর্থের লোভে মানবপাচারকারী চক্রে জড়িয়ে পড়ে। শুরুতে চক্রের দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানো শুরু করে। পরে নিজেই রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় খুলে বসে টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজ নামে তিন এজেন্সি। টুটুলের এ প্রতারণার কাজে অন্যতম সহযোগী মো. তৈয়ব আলী। চায়ের দোকানদার হলেও পরিচয় দেন নামকরা এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার হিসেবে। এর আড়ালে টুটুলের মানবপাচার চক্রের সহায়তায় অসংখ্য মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠায় এবং দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা।

চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা : তৈয়ব শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের উচ্চ বেতনে লোভনীয় চাকরির কথা বলে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে আসত। বিভিন্ন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে চাকরিসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে সে। বিষয়টি এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে তৈয়ব।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]