ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আত্মহত্যাকারীর জন্য যে শাস্তি
মোহাম্মদ হাসিব উল্লাহ
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৪৬ পিএম আপডেট: ১৩.১০.২০২১ ১২:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 124

আত্মহত্যা জঘন্য পাপের মধ্যে অন্যতম। এটি কবিরা গুনাহ। আত্মহত্যা মানে আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বাভাবিক মৃত্যু উপেক্ষা করে নিজেই নিজের জীবনকে শেষ করে দেওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে প্রসারিত কোরো না।’ (সুরা বাকারা : ১৯৬)

সমাজে নানা শ্রেণির নানা পেশার মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা লক্ষণীয়। গবেষকদের মতে, আত্মহত্যার পেছনে মুখ্য কারণ হিসেবে পারিবারিক কলহ, জীবন সংগ্রামে বিভিন্ন কাজে ব্যর্থতা ও হতাশা, স্বামী ও স্ত্রীর  মধ্যে মনোমালিন্য, মানসিক অবসাদ ও যন্ত্রণা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বিশেষ করে বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এর প্রবণতা ব্যাপক হারে দেখা যাচ্ছে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা ভালো ফলাফল অর্জনে ব্যর্থতা অথবা প্রেম-ভালোবাসায় ব্যর্থতা বা প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি থেকে অনেকেই নিজেদের প্রতি আত্মঘাতী হয়ে আত্মহত্যা করছে। এভাবে প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী নানা কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।

আত্মহত্যার মাধ্যমে শুধু একটি জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়া নয়; বরং অন্তরে লুকিয়ে থাকা হাজারো স্বপ্ন মাটির সঙ্গে মিশে ধুলোয় পরিণত হয়। কোনো কাজে ব্যর্থ হাওয়া মাত্রই আল্লাহর ওপর ভরসা না করে অনেকেই হতাশায় ভুগে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আত্মহত্যাকারীর শাস্তি জাহান্নামে কীভাবে দেওয়া হবে ও এর পরিণাম সম্পর্কে যদি কেউ যথাযথভাবে অবহিত থাকে, তবে আল্লাহর কাছে আত্মহত্যা থেকে অবশ্যই সে পানাহ চাইবে এবং এমন কাজের প্রতি অন্তরে ঘৃণা জন্মাবে। 

হজরত হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) বর্শা বিদ্ধ হতে থাকবে।’ (বুখারি : ১৩৬৫)। হজরত আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে লোক পাহাড়ের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরকাল সে জাহান্নামের ভেতর ওই ভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে লোক বিষপানে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে। যে লোক লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনের ভেতর সে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।’ (বুখারি : ৫৭৭৮)

এমনকি প্রিয় নবী (সা.) আত্মহত্যাকারীর জানাজাও পড়েননি। হজরত জাবের ইবনে সামুরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবীজি (সা.)-এর কাছে জনৈক ব্যক্তির লাশ উপস্থিত করা হলো। সে চ্যাপটা তীরের আঘাতে আত্মহত্যা করেছে। নবীজি (সা.) তার জানাজার নামাজ পড়া থেকে বিরত থেকেছেন।’ (মুসলিম : ২১৫২)। তাই হতাশা কিংবা কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে নিমিষেই আত্মহত্যার পথ বেছে না নেওয়া। জীবনের কঠিন মুহূর্তে ধৈর্য ও মেধা খাঁটিয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয় বরং আবেগতাড়িত হয়ে নিজের ভুলে নিজের জীবনকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেওয়া। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]