ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

দুর্গাপূজা ও আনুষ্ঠানিকতা
ড. দিলীপ কুমার সাহা
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১, ১০:০২ এএম আপডেট: ১৩.১০.২০২১ ১০:১০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 87

শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহাপূজা নামে পরিচিত। শাস্ত্র মতে, শ্রীশ্রী দুর্গাপূজায় সাতটি কল্পসহ এখানে থাকে বৈচিত্র্যময় সমাবেশ- বিশেষত স্নাপন (স্নান), পূজন, বলি ও হোম- এ চারটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের আয়োজন, তাই এর নাম মহাপূজা।

দুর্গাপূজা সম্পর্কে শাস্ত্রে বর্ণিত উপাখ্যানটি হলো- একবার মহিষাসুর দেবতা ব্রহ্মাকে কঠোর সাধনায় তুষ্ট করেছিলেন। ব্রহ্মা মহিষাসুরের সাধনাস্থলে এসে তাকে বর চাইতে বললেন। মহিষাসুর অমর বর চাইলেন। কিন্তু একমাত্র দেবতারা ছাড়া আর কারও পক্ষে এই অমর বর লাভ সম্ভব নয়। তিনি মহিষাসুরকে অন্য যেকোনো বর প্রার্থনা করতে বললেন। মহিষাসুর এবার শঠতার আশ্রয় নিয়ে পুনরায় বর চাইলেন, কোনো পুরুষ যেন তাকে বধ করতে না পারে। ব্রহ্মা তাকে সেই বর-ই দিলেন। মহিষাসুর মনে করলেন, তিনি তার কাক্সিক্ষত অমর বর পেয়ে গেছেন। কারণ তার ধারণা, কোনো নারীর এত শক্তি নেই যে মহিষাসুরকে বধ করে। ব্রহ্মার বরে বলীয়ান হয়ে মহিষাসুর একশত বর্ষব্যাপী যুদ্ধ করেন, তাতে পরাজিত দেবতাদের তিনি তাড়িয়ে দিলেন স্বর্গরাজ্য থেকে। স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালের একচ্ছত্র অধিপতি। তখন দেবতারা ব্রহ্মাকে সামনে রেখে শিবের কাছে গেলেন। শিব তাদের নিয়ে গেলেন বিষ্ণুর কাছে। বিষ্ণুদেব তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিত শক্তিকে মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উপদেশ দিলেন। প্রথমে বিষ্ণু ও পরে শিব ও ব্রহ্মার মুখমণ্ডল হতে এক মহাতেজ নির্গত হলো। সেই সঙ্গে অন্যান্য দেবতাদের দেহ থেকেও সুবিপুল তেজ নির্গত হয়ে সেই মহাতেজের সঙ্গে মিলিত হলো। সু-উচ্চ হিমালয়ে স্থিত ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে সেই বিরাট তেজপুঞ্জ একত্রিত হয়ে এক নারীমূর্তি ধারণ করল। ফলে দেবীর নাম হলো কাত্যায়নী। প্রকৃতপক্ষে এই দেবীই হলো সর্বভূতে বিরাজিত মঙ্গলদায়িনী, করুণাময়ী আদিশক্তি- দেবী দুর্গা।

এক এক দেবতার প্রভাবে দেবীর এক এক অঙ্গ উৎপন্ন হলো। প্রত্যেক দেবতা তাদের অস্ত্র দেবীকে দিলেন। হিমালয় দেবীকে তার বাহন সিংহ দিলেন। দেবী ও তার বাহনের সিংহনাদে ত্রিভুবন কম্পিত হতে লাগল। মহিষাসুর সেই প্রকম্পনে ভীত হয়ে প্রথমে তার সেনাদলের বীরযোদ্ধাদের পাঠাতে শুরু করলেন। দেবী ও তার বাহন সিংহ প্রবল পরাক্রমে যুদ্ধ করে একে একে সব যোদ্ধা ও অসুর সেনাকে বিনষ্ট করলেন। তখন মহিষাসুর স্বয়ং দেবীর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করলেন। যুদ্ধকালে ঐন্দ্রজালিক মহিষাসুর নানা রূপ ধারণ করে দেবীকে ভীত বা বিমোহিত করার প্রচেষ্টায় রত হলেন; কিন্তু দেবী সেই সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলেন। তখন অসুর অহঙ্কারে মত্ত হয়ে প্রবল গর্জন করলে দেবী লাফ দিয়ে মহিষাসুরের ওপর চড়ে তাঁর কণ্ঠে পা দিয়ে শূলদ্বারা বক্ষ বিদীর্ণ করে তাকে বধ করলেন। অসুরসেনা হাহাকার করতে করতে পলায়ন করল এবং দেবতারা স্বর্গের অধিকার ফিরে পেয়ে আনন্দধ্বনি করতে লাগলেন, অর্জিত হলো দেবতাদের কাক্সিক্ষত বিজয়। 

দুর্গাপূজা সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে যতটুকু জানা যায়- সৃষ্টির প্রথম যুগে পরমাত্মা কৃষ্ণ বৈকুণ্ঠের আদি-বৃন্দাবনের মহারাসমণ্ডলে প্রথম দুর্গাপূজা করেন। এরপর মধু ও কৈটভ নামে দুই অসুরের ভয়ে ব্রহ্মা দ্বিতীয় দুর্গাপূজা করেছিলেন। ত্রিপুর নামে এক অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে শিব বিপদে পড়ে তৃতীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। দুর্বাসা মুনির অভিশাপে ল²ীকে হারিয়ে ইন্দ্র যে পূজার আয়োজন করেছিলেন, সেটি ছিল চতুর্থ দুর্গাপূজা। এরপর থেকেই 
পৃথিবীতে দেবতা, মুনিঋষি, সিদ্ধপুরুষ ও মনুষ্যকুল নানা দেশে নানা সময়ে দুর্গাপূজা করে আসছেন।

এ দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরমপরায় ব্যবহৃত কিছু শব্দ নিয়ে আলোচনা করব যা অনুসন্ধিৎসুদের সহায়তা হতে পারে, যেমন- পিতৃপক্ষ, তর্পণ, মহালয়া, দেবীপক্ষ, অকালবোধন, নবপত্রিকা, মহাস্মান, কুমারী পূজা, সন্ধিপূজা ও বিজয়া দশমী।

পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষ : বছরের ১২ মাসে ২৪টি পক্ষ রয়েছে, তার মধ্যে ২টি পক্ষ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমটি, কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষ সূচিত হয়। মর্ত্যলোক ও স্বর্গলোকের মধ্যে থাকে পিতৃলোক। এসময় পিতৃলোক থেকে মর্ত্যলোকে পিতৃপুরুষেরা আসেন। পিতৃপক্ষে স্বর্গত পিতৃপুরুষের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করা হয়। পিতৃপক্ষে পুত্র কর্তৃক শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের ফলেই মৃতের আত্মা স্বর্গে প্রবেশাধিকার পান। 

মহালয়া : মহালয়া হচ্ছে পিতৃপক্ষের শেষ দিন এবং দেবীপক্ষ শুরুর পূর্ব দিন। পিতৃপক্ষে আত্মসংযম করে দেবীপক্ষে শক্তি সাধনায় প্রবেশ করতে হয়। পুরাণ মতে, এই দিনেই দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন। এদিন অতি প্রত্যুষে চণ্ডীপাঠ করার রীতিও রয়েছে সনাতন সমাজে। এসব ধর্মানুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য সাধনার মাধ্যমে মহালয়ে প্রবেশের তরে মন্দিরে মন্দিরে বেজে ওঠে শঙ্খধ্বনি। পুরোহিতগণের শান্ত, অবিচল ও গম্ভীর কণ্ঠ থেকে ভেসে আসে সুমধুর চণ্ডীপাঠ। এই মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে দেবতারা দুর্গাপূজার জন্য নিজেদের জাগ্রত করেন। মহালয়া সূচিত হয় ঘোর অমাবস্যায়। দেবীর আদ্যাশক্তির মহাতেজের আলোয় সেই অমাবস্যা দূর হয়।

দেবীপক্ষ বা মাতৃপক্ষ : মহালয়ার পর প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয় দেবীপক্ষ। দেবী আদ্যাশক্তির বন্দনা। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এই দেবী আদ্যাশক্তির বন্দনা তথা শারদীয় দুর্গাপূজা। এ পক্ষকে দেবীপক্ষ বা মাতৃপক্ষ বলার আরও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে, মহালয়ার পরের প্রতিপদ থেকে শুরু করে নবমী পর্যন্ত দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়া নয়টি আলাদা আলাদা রূপে মর্ত্যে পূজিত হন। 

অকালবোধন : রাবণ ছিলেন শিবভক্ত। মা পার্বতী তাকে রক্ষা করতেন। তাই ব্রহ্মা রামকে পরামর্শ দেন, শিবের স্ত্রী পার্বতীকে পূজা করে তাকে তুষ্ট করতে। তাতে রাবণ বধ রামের পক্ষে সহজসাধ্য হবে। দুর্গাপূজা বসন্তকালের উৎসব হলেও কালিকা পুরাণ ও বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুসারে, রাম শরৎকালে পার্বতীর দুর্গতিনাশিনী রূপের বোধন, চণ্ডীপাঠ ও মহাপূজার আয়োজন করেন। শাস্ত্র অনুসারে, শরৎকালে দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন। তাই এই সময়টি তাদের পূজার যথাযথ সময় নয়। অকালের পূজা বলে তাই এই পূজার নাম হয় ‘অকালবোধন’। আশি^ন মাসের শুক্লা ষষ্ঠীর দিন রাম কল্পারম্ভ করেন। 

নবপত্রিকা : একটি সপত্র কলাগাছের সঙ্গে অপর আটটি সমূল সপত্র উদ্ভিদ একত্র করে একজোড়া বেলসহ শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে লালপাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে ঘোমটা দেওয়া বধূর আকার দেওয়া হয়। তারপর তাতে সিঁদুর দিয়ে সপরিবার দেবী প্রতিমার ডান দিকে দাঁড় করিয়ে পূজা করা হয়। প্রচলিত ভাষায় নবপত্রিকার নাম কলাবউ। নবপত্রিকার নয়টি উদ্ভিদ আসলে দেবী দুর্গার নয়টি বিশেষ রূপের প্রতীকরূপে কল্পিত হয়। এই নয় দেবী হলেন- রম্ভাধিষ্ঠাত্রী ব্রহ্মাণী, কচ্বাধিষ্ঠাত্রী কালিকা, হরিদ্রাধিষ্ঠাত্রী উমা, জয়ন্ত্যাধিষ্ঠাত্রী কার্তিকী, বিল্বাধিষ্ঠাত্রী শিবা, দাড়িম্বাধিষ্ঠাত্রী রক্তদন্তিকা, অশোকাধিষ্ঠাত্রী শোকরহিতা, মানাধিষ্ঠাত্রী চামুণ্ডা ও ধান্যাধিষ্ঠাত্রী লক্ষ্মী। এই নয় দেবী একত্রে নবপত্রিকা। 

মহাস্নান : দুর্গাপূজার একটি বিশেষ অনুষ্ঠান মহাস্নান। মহাসপ্তমীর দিন নবপত্রিকা স্নানের পর মহাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। মহাষ্টমী ও মহানবমীর দিনও পূজার মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে মহাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গা প্রতিমার সামনে একটি আয়না রেখে সেই প্রতিফলিত প্রতিমার প্রতিবিম্বে বিভিন্ন জিনিস দিয়ে স্নান করানো হয়।

কুমারী পূজা : সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিথিতে ষোলো বছরের কম বয়স্কা কোনো কুমারী বালিকাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করার রীতি আছে। বৃহদ্ধর্ম পুরাণে আছে দেবী অম্বিকা কুমারী কন্যারূপে দেবতাদের সামনে আবির্ভূতা হয়ে বেলগাছে দেবীর বোধন করতে নির্দেশ দেন। ১৯০১ সালে ভারতীয় দার্শনিক ও ধর্মপ্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ সর্বপ্রথম কলকাতার বেলুড় মঠে ৯ জন কুমারী পূজার মাধ্যমে এর পুনঃপ্রচলন করেন। হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহ, সতীদাহ, বিধবাসহ নানা অবিচারে নারীরা ছিল নিষ্পেষিত। চিরকুমার বিবেকানন্দ নারীকে দেবীর আসনে সম্মানিত করার জন্যই হয়তো পুনঃপ্রচলন করেন।

সন্ধিপূজা : দুর্গাপূজার একটি বিশেষ অধ্যায় হলো সন্ধিপূজা। দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন হয় এই বিশেষ পূজা। এই পূজার সময়কাল ৪৮ মিনিট। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট- মোট ৪৮ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এই পূজা। যেহেতু অষ্টমী ও নবমী তিথির সংযোগস্থলে এই পূজা হয়, তাই এই পূজার নাম সন্ধিপূজা।

বিজয়া দশমী : বিজয়া দশমী ধর্ম পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষার জন্য মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার জয়কে স্মরণ করে দুর্গাপূজার সমাপ্তি চিহ্নিত করে। এক বছর পরপর উমা স্বামীগৃহ কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে মা-বাবার বাড়িতে আসেন। তারপর আবার ফিরে যান কৈলাসে স্বামী শিবের কাছে। বিজয়ায় বিসর্জন মাকে ত্যাগ নয় বিশেষরূপে অর্জন। এই কয়েক দিনের পূজাশেষে যে জ্ঞান অর্জিত হলো তা হচ্ছে, মা স্বস্থানে কৈলাসে ফিরে গেলেন। এ অবস্থায় মা নিরাকারা। বাঙালিরা এই উৎসবকে হিমালয়ের দেবী দুর্গার বাপের বাড়িতে ফেরার অনুষ্ঠান হিসেবে দেখে। তাই বাঙালি সমাজে এই পূজাকে কন্যার বাপের বাড়তি আসা ও শ^শুর বাড়িতে ফিরে যাওয়া হিসেবে কল্পনা করে, যা আমাদের সমাজের বাস্তবরূপ।

যিনি কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য ইত্যাদি ষড় রিপুর আক্রমণ থেকে সাধক ভক্তের দেহদুর্গকে রক্ষা করেন তিনিই দুর্গা। অন্যায়-অশুভর বিপরীতে ন্যায় ও শুভশক্তির জয়, সৌন্দর্য-মমতা-সৃজনের আধার, অসহায় ও নিপীড়িতের আশ্রয় দানকারী তিনিই জীবজগতের একত্ববিধানকারী, জগজ্জননী মা দুর্গা। যিনি নানাবিধ দুর্গতি দূর করেন, তিনিই দুর্গা।

মানবসৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই সুর-অসুরের, ভালো-মন্দের, সভ্য-অসভ্যের, সত্য-অসত্যের, শুভ-অশুভের সংগ্রাম চলে আসছে। অশুভ শক্তির প্রাদুর্ভাবে সমাজে-রাষ্ট্রে নেমে আসে অবিচার, অত্যাচার, সন্ত্রাস, খুন-জখম, শোষণ, ত্রাসন, পেষণ, দংশন, লুণ্ঠন, অনাচার, ব্যভিচার, দুষ্কর্ম, দ্বেষ-বিদ্বেষ, হিংসা, জিঘাংসা। নেমে আসে দুর্গতি, দুর্ভাগ্য, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, অভাব-অনটন, ভয়-ভীতি, নিরাশা-হতাশা আর নিরাপত্তাহীনতা। তাই সর্ববিধ্বংসী অশুভ শক্তির বিনাশার্থে হিন্দু ভক্তবৃন্দ মহিষমর্দিনী শ্রীশ্রী দুর্গার পূজা করেন অটল বিশ্বাসে, অবিচল আস্থায়, সুদৃঢ় প্রত্যয়ে, অচলা ভক্তিতে। এ পূজা শুধু বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, স¤প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে দুর্গোৎসব আজ জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিংশ শতকের শুরুর দিকে বাংলাদেশে দুর্গাপূজা সমাজের বিত্তশালী এবং অভিজাত হিন্দু পরিবারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গত শতাব্দীর শেষের দিকে এবং এই শতাব্দীর শুরুর দিকে দুর্গাপূজা তার সার্বজনীনতার রূপ পায়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সার্বজনীন এ দুর্গোৎসবকে ঘিরে সবার মধ্যে গড়ে ওঠে এক সৌহার্দ্য-প্রীতি ও মৈত্রীবন্ধন- যা আবহমান বাংলার প্রতিচ্ছবি। এ পূজা আমাদের শিক্ষা দেয়, সবাই একত্রিত থাকলে সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে যেকোনো বাধাবিপদ থেকে অনায়াসে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক, সিআইডি 
বাংলাদেশ পুলিশ




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]