ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

পণ্যের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১, ৯:৩৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 66

আভিধানিক অর্থে সিন্ডিকেট একটি ইতিবাচক শব্দ। ইংরেজি এই শব্দটির অর্থ- একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মিলে কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। অর্থনীতি আর ব্যবসা-বাণিজ্যে সিন্ডিকেটের আলাদা একটি গুরুত্ব আছে। একটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে যখন কোনো উদ্যোগ, বিনিয়োগ বা লেনদেন সম্ভব হয় না, তখন অনেকে মিলে সেটি করলে তাকে সিন্ডিকেট হিসেবে অভিহিত করা হয়। 

কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যে সিন্ডিকেট এখন দেশের সাধারণ মানুষের কাছে একটি আতঙ্কের নাম। এর মাধ্যমে আমরা এখন ব্যবসায়ীদের এক ধরনের অপতৎপরতাকে বুঝি, যার মাধ্যমে তারা সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ঠকায়। অনেক দিন ধরেই আমাদের নিত্যপণ্যের বাজারে একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয় আছে। স¤প্রতি এই সিন্ডিকেটের কারাসাজিতে আবার বেড়েছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। এর মধ্যে মানুষের তিনবেলার আহারে যেসব পণ্যের দরকার হয় সেগুলোরই দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে আছে- চাল, ডাল, আটা, ময়দা, ভোজ্য তেল, চিনি, সবজি, মুরগি, ডিম, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, গরম মসলা ও আদা। একসঙ্গে সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি মানতে পারছেন না ভোক্তারা। তারা বলছেন, বাজারে নিত্যপণ্যের কোনো অভাব নেই। কোনো পণ্যের ঘাটতি আছে বলে তো মনে হয় না। তবুও বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একেক ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা মূল্য বাড়াচ্ছেন একেক অপকৌশলে বা খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে; যা সম্পূর্ণ অনৈতিক বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পেঁয়াজসহ ভোগ্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘দেশে এখন ৫ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। এই পেঁয়াজ দিয়ে আগামী তিন মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। যদি কোনো ব্যবসায়ী অনৈতিকভাবে দাম বাড়ায় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কিন্তু শুধু পেঁয়াজ, চাল কিংবা ভোজ্য তেল নয়, কাঁচাবাজারেও বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। কাঁচামরিচের কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। বেগুনের কেজি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে। শসার কেজি ৮০ টাকা, টমেটোর কেজি ১০০ টাকা, শিমের কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। দাম বৃদ্ধির জন্য সবজি ব্যবসায়ীদেরও খোঁড়া অজুহাত। তারা বলছে, দেশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এতে সবজি নষ্ট হয়েছে। এ কারণে বাজারে সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে। কিন্তু দেশে এবার কোথাও অতিবৃষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী বন্যা তেমন একটা হয়নি।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান বলেছেন, ‘পণ্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে এখন চাপা কষ্ট বিরাজ করছে। তারা না পারছে কইতে, না পারছে সইতে। সরকারের উচিত দেশের মানুষের কষ্ট লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং সিন্ডিকেট করে যারা পণ্যমূল্য বাড়াচ্ছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা।’

আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে নিত্যপণ্যের বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। ভেঙে ফেলতে হবে বাজার সিন্ডিকেট। কারসাজির মাধ্যমে যারা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প জোগানের দিকে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করতে হবে। টিসিবির কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। প্রয়োজনে গড়ে তুলতে হবে এমন আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান। এতে সিন্ডিকেট নিত্যপণ্যের বাজারে বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। বাজারে ভারসাম্য বজায় থাকবে। জনমনে ফিরবে স্বস্তি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]