ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস : ডিজিটাল প্রজন্ম গড়ার প্রতিশ্রুতি
রাফিয়া লাইজু
প্রকাশ: সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 115

আজ ১১ অক্টোবর। আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস। প্রতিবছর জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এ দিবসটি পালন করে থাকে। দিনটিকে মেয়েদের দিনও বলা হয়। ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথম এই দিবস পালন করা হয়। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য- ‘ডিজিটাল যুগ আমাদের যুগ’।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি বেসরকারি সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় একটি প্রকল্পরূপে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের জন্ম হয়। তাদের মূল সেøাগান ছিল- ইবপধঁংব ও অস ধ এরৎষ (কারণ আমি একজন মেয়ে)। এই সংস্থাটির জন্মদাতা ব্রিটিশ সাংবাদিক জন ল্যাঙ্গডন ডেভিস এবং রিফিউজি ওয়ার্কার এরিক মুগোরিডচ। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, স্প্যানিশ সিভিল যুদ্ধের ফলে যে সমস্ত শিশু উদ্বাস্তু হয়েছিল, গৃহহীন অসহায় জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছিল- সেই শিশুদের খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষা সরবরাহ করা। এই সংস্থার বর্তমান চারটি রিজিয়ন রয়েছে। যেগুলোকে হাব নামে চিহ্নিত করা হয়। এর হেড অফিস যুক্তরাজ্যে অবস্থিত।

২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারিখে এই প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ সভায় গৃহীত হয় ও ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর তারিখে প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালন করা হয়। এই দিবসটির মূল লক্ষ্য- মেয়েদের শিক্ষার অধিকার, পরিপুষ্টি, চিকিৎসা সুবিধা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, নারীর বিরুদ্ধে হিংসা ও বলপূর্বক বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করা। প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করা’।

এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ডিজিটাল যুগ, আমাদের যুগ। অর্থাৎ আমাদের সমাজে পুরুষের তুলনায় নারীরা তথ্য ও ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে আছে। ২০১৯ সালের শেষ পর্যায়ে গোটা বিশ্বে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ফলে সব প্রকার অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশে ১৫ মার্চ ২০২০ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়। কিন্তু মার্চ ২০২০ থেকে অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশে অনেক কন্যা শিশু বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। তারা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপেক্ষা করে সাংসারিক জীবনে প্রবেশ করেছে। আমাদের সমাজে পুরুষের তুলনায় নারীরা পিছিয়ে থাকে। তারা সব সময় নানা বৈষম্যের শিকার হয়। কিন্তু লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এই দিবস পালনের প্রধান উদ্দেশ্য। তারা অন্যান্য ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকে। যেমন- শিক্ষার অধিকার, পরিপুষ্টি, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর বিরুদ্ধে হিংসা, নারী শিক্ষা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও বলপূর্বক বাল্যবিবাহ।
বর্তমান সমাজে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে মেয়েদের ১৮ বছরের নিচে বিয়ে দিলে তাকে বাল্যবিবাহ বলে। কিন্তু আমাদের সমাজে ১২ বছর থেকে শুরু করে কন্যা শিশুদের জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়। এতে কন্যা শিশু যেমন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়, তেমনি মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। এতে তার পড়াশোনা তো বন্ধ হয়ে যায়ই, পাশাপাশি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুকের আবদার করা হয়। আর কনে যদি বাপের বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা, আসবাবপত্র আনতে না পারে তাকে নির্যাতন করে। যে কন্যা শিশুর এখন পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার কথা, সে সংসারের হাল ধরে। বাল্যবিবাহের কারণে কন্যা শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

একজন মা যদি শিক্ষিত না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুরা তাদের কাছে থেকে কী শিক্ষা লাভ করবে? সামাজিক, রাজনৈতিক, কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গায় নারী-পুরুষের ভেদাভেদ দূরীকরণ হলো কন্যা শিশু দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। সমাজে বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব না হলে, নারী নির্যাতন বন্ধ করা অনেকটা দুরূহ। একটি শিশু সম্পূর্ণ নারী হয়ে ওঠার জন্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণতা পাওয়ার আগেই জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের সমাজে এ সম্পর্কে কিছু প্রচলিত কুসংস্কার আছে। বাবা-মা পরিবারের বোঝ হালকা করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই কাজের পরিসমাপ্তি ঘটায় এবং তার সঙ্গে একটি শিশু অথবা একজন নারীর মানসিক ইচ্ছা-অনিচ্ছার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অপমৃত্যু ঘটে। বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি সমাজ থেকে দূর করার জন্যই কন্যা শিশু দিবসে কঠোর প্রতিজ্ঞা গ্রহণের অঙ্গীকার নেওয়া হয়। কন্যা শিশুরা যেন ছেলেদের মতো পড়াশোনা করতে পারে সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

অন্যদিকে লিঙ্গ বিভাজন ডিজিটাল বিভাজনের চেয়েও বেশি। মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় কম প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং প্রযুক্তি সম্পর্কিত দক্ষতা এবং চাকরির সুযোগ কম পায়। ভৌগোলিক এবং প্রজন্মের মধ্যে যে বৈষম্য, দূরত্ব ও বর্জন রয়েছে তা দূর করার মাধ্যমেই সবার জন্য, সবার সঙ্গে ডিজিটাল বিপ্লবের সূচনা করা যেতে পারে। এই উদ্দেশ্য নিয়েই এবারে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আরও আলোকপাতের বিষয় হলো- নারী-পুরুষে বৈষম্য দূরীকরণ; সামাজিক, রাজনৈতিক, কর্মক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ভেদাভেদ দূরীকরণ; কন্যা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ : যেখানে নারী নির্যাতন সম্পূর্ণ নিরাময় হয়নি সেখানে কন্যা শিশু নির্যাতন রোধ করা বেশ দুরূহ; সমাজের আনাচে-কানাচে নারী নির্যাতনকারীদের প্রতি কঠোর বার্তা প্রেরণ ও এই দিবস পালনের আইনি সহায়তা; কন্যা শিশুসহ নারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ, দুর্ব্যবহার, শারীরিক নির্যাতন ইত্যাদি অসামাজিক অত্যাচার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান তাকে আইনি পরামর্শ ও সাহায্য করবে তারই অঙ্গীকার এই দিনে গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়াও বাল্যবিবাহ রোধ ও শিশু কন্যার স্থান নিয়ে আলোকপাত করা হয়। প্রত্যেক পরিবার ও দম্পতি যদি পুত্র সন্তানকে পৃথিবীতে আনার জন্যই কন্যাভ্রƒণ হত্যাকে প্রাধান্য দেয়, সমাজে শুধু পুরুষের অস্তিত্বই প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে পৃথিবীর গতি যে বন্ধ হয়ে যাবে এ কথা সবার মাথায় রাখা জরুরি।

-এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]