ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

মশক নিবারণী দফতরের কাজ কী?
ফয়সাল খান
প্রকাশ: রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:৩৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 69

অকার্যকর সংস্থায় পরিণত হয়েছে ‘ঢাকা মশক নিবারণী দফতর’। মশক নিধনে সিটি করপোরেশনকে কর্মী সরবরাহ ছাড়া এই দফতরের তেমন কোনো কাজ নেই বললেই চলে। জনসচেতনতা সৃষ্টি বা পরিচিতির জন্য সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে শুধু একটি সাইনবোর্ড ছাড়া আর কিছুই নেই। এমনকি প্রযুক্তির এই সোনালি যুগে একটি ওয়েবসাইটও করতে পারেনি ৪১ বছরের এ দফতর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার বা ইউটিউবেও কোনো কার্যক্রম নেই তাদের। ফলে ঢাকা মশক নিবারণী দফতর সম্পর্কে তথ্য জানার সুযোগ পাচ্ছে না জনগণ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তাও এ সম্পর্কে জানেন না। অথচ বছরে কয়েক কোটি টাকা খরচ হচ্ছে এই দফতরের পেছনে।

রাজধানীর লালবাগের ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পাশে ঢাকা মশক নিবারণী দফতরের একমাত্র কার্যালয়। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে নানা অব্যবস্থাপনা লক্ষ করা যায়। প্রবেশমুখে অভ্যর্থনা ও তথ্যকেন্দ্রের জন্য তৈরি গোলাকার ঘরটি তালাবদ্ধ। ভেতরে তিনটি বড় বড় ড্রাম রয়েছে। একটু ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে পরিত্যক্ত দুটি গাড়ি। গাড়ির বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকতেও দেখা গেছে। দোতলা ভবনের সামনে দুটি ভাঙাচোরা টিনশেড ঘর রয়েছে। ঘর দুটির টিনের চাল খসে পড়ছে। চারপাশে ময়লা-আবর্জনায় ভরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় ঢাকার মশা মারার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মশক নিয়ন্ত্রণ স্কিমের আওতায় ৪১৭ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালে এই বিভাগটিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেওয়া হয়। তখন মোট জনবলের ৩৩৮ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা হয়।

বর্তমানে ঢাকা মশক নিবারণী দফতরে ২৭৯ জন জনবল রয়েছে। এর মধ্যে ২৩১ জন কর্মী, ৩২ জন সুপারভাইজার ও ৬ জন ইন্সপেক্টর কালেক্টর (আইসি)। এই জনবলের ১৪ জন বাদে বাকিরা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে কাজ করছেন। ওই ১৪ জন অফিসের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে দফতরটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এই দফতরটি কার্যকর বা গবেষণা সেল প্রতিষ্ঠা করলে মশক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান সময়ের আলোকে বলেন, এই দফতরটিকে নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। সরকারের উচিত এটিকে মশক নিধনে কাজে লাগানো। মশক নিধনে গবেষণার কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে যেহেতু এ ধরনের কোনো গবেষণাগার নেই, তাই প্রতিষ্ঠানটিকে গবেষণার কাজে ব্যবহার উপযোগী করা সময়ের দাবি।

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবীব বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে গবেষণা সেল খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। মশার ওষুধের ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়। এরপর পৃষ্ঠা ১১ কলাম ৪
মশক নিবারণী দফতরের কাজ কী?

কোন সময় কী ওষুধ প্রয়োজন তা প্রতি বছরই পরিবর্তন হয়। তাই কীটতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে মশার ধরন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা দরকার। কেননা সব মশা সব সময় ক্ষতিকর নয়। তিনি বলেন, যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত, তাই এখানে এ কাজের জন্য একটি সেল প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এটা করা হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ আশপাশের সিটি করপোরেশনগুলোকেও মশক নিধনে সাহায্য করতে পারবে সংস্থাটি। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, এই দফতরটি সম্পূর্ণ একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখানে ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কার্যালয় করা যেতে পারে। অথবা সংস্থাটিকে কার্যকর করতে পুনর্গঠন করা যেতে পারে। 

সংস্থাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সিটি করপোরেশন-১) নুমেরী জামান সময়ের আলোকে জানান, এখন এই দফতরের তেমন কোনো কাজ নেই। কর্মীরা সিটি করপোরেশনে কাজ করছে। সরকার যেভাবে পরিকল্পনা করবে সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়েবসাইট নেই, তবে বানাব।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]