ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৯ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৯ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষকে তৎপর থাকতে হবে
লুৎফর রহমান লাভলু
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯:৫০ এএম আপডেট: ১৮.০৯.২০২১ ৯:৫২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 93

পৃথিবীর রূপ আজ স্বাভাবিক নেই। করোনা নামক মহামারির হাতে বন্দি সারাবিশ্ব। দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তালা ঝুলছিল সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোয়। তবে দেশে করোনার প্রকোপ ও সংক্রমণ কমাতে ১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালা খুলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দেড় বছর পর ক্লাস হবে, এ খুশিতে ব্যাপক উল্লসিত শিক্ষার্থীরা।

আবারও হেসে উঠেছে শিক্ষার্থীদের প্রাণের স্পন্দন ক্যাম্পাসগুলো। ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে সেই চিরচেনা বিদ্যাপীঠ। করোনা পরিস্থিতিতে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে এই ভেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শেষ সময় পর্যন্ত ব্যস্ত ছিল। তবে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাঙ্গন খোলাতে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো থেকে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে খানিক দূরে বসানো হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন ও রাখা হয়েছে স্যানিটাইজার। কিছু বিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে টানানো হয়েছে ব্যানার। দুয়েকদিনের মধ্যে শুরু হবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও। এ ছাড়াও প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে দেখা যাচ্ছে শারীরিক তাপমাত্রার যন্ত্র। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি শিক্ষার্থী যাচ্ছে বিদ্যালয় ও কলেজে যথাসম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে মাস্ক পরে ও শ্রেণিকক্ষেও যথাযথ দূরত্ব বজায় রেখে শুরু হয়েছে ক্লাস।

তবে করোনা পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে না আসায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোয় এখনও পুরোপুরি ক্লাস শুরু করা হয়নি। প্রথম দফায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হবে সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষার্থীর সপ্তাহে দুদিন ক্লাস হবে। তবে বাকি যেদিনগুলোয় ক্লাস থাকবে না সেদিনগুলোয় শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট ও অনলাইনে ক্লাস চলবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাউশি)। এজন্য রুটিন তৈরি করে ইতোমধ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকারি তিতুমীর কলেজে ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে আবারও ছুটি বাড়ানো হবে। তিনি বলেন সংক্রমণের সঙ্গে সবকিছু জড়িত।

বর্তমানে যেহেতু সংক্রমণ কমেছে তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে। যদি করোনার পরিস্থিতি আবারও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ে তবে শিক্ষা ছুটি বাড়ানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। আমরা চাই না আমাদের শিশুরা কোভিডে আক্রান্ত হোক। শিক্ষার্থীদের টিকা ও সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৮ বছরের নিচে শিশুদের কোভিড টিকা প্রদানের অনুমতি দেয়নি। তবে টিকার জন্য কথা বলা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সঙ্গে। তারা অনুমতি দিলেই, দেশে ১৮ বছরের নিচে সব শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদান করা হবে। যদিও বিশ্বের কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ১২ বছরের ওপরে শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হয়েছে ফলাফল কেমন হবে তা জানার জন্য। প্রায় দীর্ঘ সময়পর স্কুল, কলেজ যেভাবে খুলছে, তাতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, এখন কতটুকু তার প্রয়োগ হবে এটাই দেখার বিষয়।

কেননা বহু প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানির বড় সঙ্কট। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বড়ই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, গ্রামের কিংবা শহরের এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে নেই শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ আবাসন ব্যবস্থা। তাই তারা বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবে তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি চারপাশের পরিবেশও ঝুঁকিমুক্ত হলেই বলা যাবে, শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিমুক্ত। শিক্ষার্থীরা যে সড়কে প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করবে, সেই রাস্তাঘাট, গণপরিবহন ও আশপাশের সব স্থান ঝুঁকিমুক্ত হতে হবে। আমরা জানি, অনেক বয়স্ক ব্যক্তিই স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাই না, তারা গড়িমসি করে থাকে। তাই খুদে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে কর্তৃপক্ষকে অনেক বেশি সোচ্চার হতে হবে। অনেকদিন শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ঝরে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছাড়তে হয়েছে অনেকের শিক্ষাজীবন, যা একটি জাতির মেরুদণ্ড ভাঙার মতো। তাই বেঁচে যেমন থাকা আমাদের জন্য জরুরি, তেমনি শিক্ষাও জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সরকারকে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, তাই এক প্রকার চাপের মুখে পড়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তা স্বস্তিদায়ক হলেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা না হলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। কেননা গত কয়েক মাস আগে ইউরোপ ও আমেরিকা মতো উন্নত দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে, তবে কিছুদিন না চলতেই করোনার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায় এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে দেশগুলো। আর আমাদের রাষ্ট্র ততটা উন্নত ও সচেতনশীল নয়, আমাদের দেশের মানুষ স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞ ও অসচেতন। দেশের সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া তখনি কল্যাণকর হবে যখন আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুস্থ, সুন্দর জীবনযাপন করে শিক্ষাঙ্গনে গিয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারব। তাই গ্রাম থেকে শহর প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের সবাইকে সচেতন হতে হবে। ছেলেমেয়েদের শিক্ষাঙ্গনে পাঠানোর সময় অবশ্যই যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠাতে হবে। মাস্ক ও স্যানিটাইজার রাখতে হবে সঙ্গে। হাচি, কাঁশি ও ওয়াশরুমে থেকে বের হয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। হ্যান্ডশেক, কাঁধে কাঁধ, বুকে বুক ও গা ঘেঁষাঘেঁষি থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত থাকতে হবে এ সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করে ক্লাস সম্পন্ন করতে হবে ও শিক্ষাঙ্গন থেকে ফিরে সবাইকে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন হয়ে পরিবারের সঙ্গে মিশতে হবে, এ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) ইতোমধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও কারিগরি সব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্পর্কে আলাদা আলাদা নোটিস পাঠিয়েছে, যার মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছে জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এবং সুষ্ঠু প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে মাউশিতে। এমন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্টদের আছে বলে মনে হয় না। ফলে নতুন বাস্তবতায় নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ, পরিবার ও রাষ্ট্রকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে।

-শিক্ষার্থী : রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]