ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

হিলিতে পেঁয়াজের দাম এক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা
ফারহান ইসলাম হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৪:০৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 69

আবারও আমদানি কম হওয়ার অজুহাতে মাত্র একদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা করে। একদিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৩ থেকে ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৫ টাকা থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

অন্যদিকে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা। হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে বন্দর দিয়ে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি হলেও সম্প্রতি বন্দর দিয়ে নাসিক জাতের পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। এর সঙ্গে সাউথের নতুন বেলোরি জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার বন্দরে আমদানিকৃত ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে (ট্রাকসেল) ২৫ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা একদিন আগেও বন্দরে ২৩ থেকে ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর নতুন সাউথের বেলোরি জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৭ টাকা কেজি দরে। 

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৪ থেকে ৫ দিন ধরে বন্দরে পেঁয়াজের দাম কম ছিল, যার কারণে আমাদের পেঁয়াজ কিনে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মোকামে পাঠাতে বেশ সুবিধা হয়েছিল; কিন্তু সপ্তাহের শেষ দিনে সেই দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে করে আমরা পাইকাররা বিপাকে পড়ে গেছি। একদিন আগেও যে দামে বন্দর থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করে মোকামে পাঠিয়েছি, সে দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা করে বেড়ে  গেছে। এখন যে দামে মোকামে বিক্রি করেছি সে দামেই বন্দরে কিনতে হচ্ছে। এতে করে লাভ তো দূরে থাক, আসল ওঠানোই সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। 

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদাকে ঘিরে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা। কিন্তু কয়েকদিন ধরে অব্যাহতভাবে অতিরিক্ত গরমের কারণে আমদানি করা পেঁয়াজের মান কিছুটা খারাপ হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হতো, যার কারণে পেঁয়াজ আমদানি করে লোকসান গুনতে হচ্ছিল। এ ছাড়াও বাজারে যে দেশীয় পেঁয়াজ ছিল ৪০ টাকা সেটি কমে ৩৫ টাকা হওয়ায় আমদানি করা পেঁয়াজের কিছুটা চাহিদা কমে গিয়েছিল। যে পেঁয়াজ এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে সেই পেঁয়াজ কমতে কমতে ২৩ থেকে ২৪ টাকায় নেমেছিল। এর ফলে অব্যাহতভাবে লোকসান থেকে বাঁচতে পেঁয়াজের আমদানি কিছুটা কমিয়েছেন আমদানিকারকরা। 
একই সঙ্গে ভারতের মোকামে যে দামে পেঁয়াজ ক্রয় করা হতো, সেখানে মোকাম দুদিন বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমায় দাম কিছুটা আগের তুলনায় বেড়েছে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় ও শুক্রবার বন্দরের কার্যক্রম বন্ধের কারণে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হবে না মর্মে দেশের বাজারে পণ্যটির চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। এর ফলে চাহিদার তুলনায় পণ্যটির সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। তবে আমদানি স্বাভাবিক হয়ে গেলে দাম আবারও কমে আসবে বলেও জানান তারা। 

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে আমদানির পরিমাণ ওঠানামা করছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহের প্রথম থেকেই পেঁয়াজের আমদানি কিছুটা বাড়লেও শেষের দিকে আমদানি আবারও কমতে শুরু করেছে। প্রথম দিকে ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা কমে ১৫ থেকে ২০ ট্রাকে নেমেছে। আর পেঁয়াজ যেহেতু কাঁচামাল দ্রুত পচনশীল পণ্য তাই কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষে বন্দর থেকে দ্রুত খালাস করতে সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর দিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গত ৬ দিনে ১২৮টি ট্রাকে ৩ হাজার ৪০৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]