ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

রাসেল-শামীমা তিন দিনের রিমান্ডে
ইভ্যালি বিদেশে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:৩১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 6609

বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল প্রতিষ্ঠানটির সিইও মো. রাসেলের। আর এর উদ্দেশ ছিল দেউলিয়া হওয়া। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন বিভিন্ন দেশে গিয়েছিলেন। ইভ্যালির কয়েক লাখ গ্রাহক আছে জানিয়ে বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির কাছে এ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু কেউ তাদের কোম্পানি কিনতে রাজি হয়নি। গত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটির দেনা দাঁড়িয়েছে হাজার কোটি টাকায়।

শুক্রবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। বৃহস্পতিবার গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে এসব তথ্য জানিয়েছেন রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা। ওই দিন দুপুরে গুলশান থানায় মামলা হয়। সে মামলায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদপুরের নিজ বাসা থেকে ওই দম্পতিকে  গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে র‌্যাব দফতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানায়, ইভ্যালি ছাড়া ই-ফুড, ই-খাতা, ই-বাজার ইত্যাদি নামে তার আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক প্লাটফর্ম রয়েছে। ইভ্যালির ব্যবসায়িক কাঠামো শুরু হয়েছিল যৎসামান্য নিজস্ব বিনিয়োগ দিয়ে। তার ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি ছিল পণ্য প্রস্তুতকারক ও গ্রাহক নেটওয়ার্ক থেকে বিপুল অর্থ তুলে নেওয়া।

কমান্ডার আল মঈন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইভ্যালির ব্যবসায়িক কারসাজি দেশব্যাপী একটি বহুল আলোচিত বিষয়। কারসাজির মাধ্যমে লাখ লাখ গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পণ্য ডেলিভারি না দেওয়ার বিষয়টি দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ইভ্যালি প্লাটফর্মে প্রতারিত হয় সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন লোভনীয় আকাশচুম্বী অফার দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বেশ কয়েকটি সংস্থা ইভ্যালির ব্যবসায়িক কাঠামো নিয়ে পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে।

রাসেল-শামীমা দম্পতির দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা ছিল কি না- জানতে চাইলে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, একটি বিদেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় অফারের আলোকে ইভ্যালির ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেন। প্রথমত একটি ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরির পরিকল্পনা করেন। পরে দায়সহ কোনো প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছে ইভ্যালিকে বিক্রি করে লভ্যাংশ তুলে নিতে চেয়েছেন। এ উদ্দেশে তারা বিভিন্ন দেশও ভ্রমণ করেন। অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে ছিল- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির কাছে শেয়ারের অফার দিয়ে প্রলুব্ধ করে দায় চাপিয়ে দেওয়া। দায় মেটাতে বিভিন্ন অজুহাতে সময় বাড়ানোর আবেদন ছিল অপকৌশল মাত্র। সর্বশেষ তিনি দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে ‘দেউলিয়া ঘোষণার’ পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু বলেননি।

এর আগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিভিন্ন আলোচনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে।

কারা ইভ্যালিকে মদদ দিয়েছে বা সহযোগিতা করেছে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, অফার দিয়ে তিনি গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করেছেন। অফারে তিনি সাধারণ বা বহুল প্রচলিত পণ্যকেই টার্গেট করেন। তার চাওয়া ছিল মার্কেট ভ্যালু তৈরি করে দক্ষিণ এশিয়ায় পরিচিতি পাওয়া। গ্রাহকের টাকা ও লভ্যাংশের পুরোটাই তিনি এ কাজে ব্যবহার করেছেন। ইভ্যালির নেতিবাচক ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি উন্মোচিত হওয়ায় অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও অর্থ লেনদেনের গেটওয়ে ইভ্যালি থেকে সরে এসেছে। কিন্তু এখান থেকে উত্তরণের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে সক্ষম হননি সিইও রাসেল।

তিন দিনের রিমান্ডে রাসেল-শামীমা : ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে জিজ্ঞাসাবাদে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আবদুল্লাহ আবু।
শুনানির সময় কাঠগড়ায় রাসেলের সঙ্গে অন্য মামলার পুরুষ আসামি থাকায় তার স্ত্রীকে সেখান থেকে নামিয়ে বেঞ্চে বসানো হয়। আদালতে শুনানি শুরু হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতের কাছে সময় চান মামলার এজাহারের কপি পড়ার জন্য। 

আদালত বলেন, আপনার দায়িত্ব মামলার কপি নিয়ে এসে শুনানি করা। আমার দায়িত্ব শুনানি শোনা। এখন কেন মামলার কপি চাইছেন? আপনাকে সময় দিতে আমার আপত্তি নেই, তবে এটা দৃষ্টিকটু দেখায়। পরে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের কাছ থেকে মামলার কপি দেখার সুযোগ দেন। মাঝখানের এই সময়টাতে অন্য মামলার শুনানি চলে। রিমান্ড শুনানি ও আদালতের আদেশ শেষে পুলিশের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে রাসেল ও তার স্ত্রীকে গারদখানায় নেওয়া হয়।

ইভ্যালি চিট করেছে- আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ : শুনানিকালে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু বলেন, ইভ্যালি বিজ্ঞাপন দিয়ে লাখ লাখ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টাকা নিয়েও তারা চিট করেছে। মামলার বাদী টাকা পরিশোধের সাত মাস পরেও অর্ডার দেওয়া পণ্য হাতে পাননি। পণ্য তো দেয়ইনি, টাকাও দেয়নি। বরং টাকা চাইতে গেলে হুমকি দেয়। তাই তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এরপর আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিন দিনের রিমান্ড আদেশ দেন। তবে রিমান্ড চলাকালে এই দম্পতিকে আদালত কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন। তার মধ্যে-আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে যেকোনো তিন দিন আসামিদের রিমান্ড হবে, রিমান্ডের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে এবং রাসেলের স্ত্রী শামীমাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নারী পুলিশের উপস্থিতি থাকতে হবে। আদালতে শুনানি চলাকালে এ সময় বাইরে ভুক্তভোগী ও গ্রাহকরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা রাসেলের মুক্তির পাশাপাশি তার রিমান্ড বাতিলেরও দাবি জানান।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]