ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

নুরুলের সিন্ডিকেটের খোঁজে মাঠে র‌্যাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১:২৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 140

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে দালালি করেই মাত্র ২০ বছরে ৪৬০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া নুরুল ইসলামের সিন্ডিকেটের খোঁজ পেতে মাঠে নেমেছে র‌্যাব। কয়েকজন সদস্যের নামও পেয়েছে তারা। এ ছাড়াও পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তার মাদক ব্যবসা, দালালি করে হঠাৎ কোটিপতি বনে যাওয়ার ব্যাপারেও তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে ইতোমধ্যে তার সম্পত্তির সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। গতকাল র‌্যাব ও পুলিশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে দৈনিক চুক্তিভিত্তিক ১৩০ টাকায় কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি নিয়েছিল নুরুল ইসলাম। আট বছর পর ২০০৯ সালে সেই চাকরি ছেড়ে দেন। তবে নিজের আস্থাভাজন আরেকজনকে ওই পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে জড়িয়ে পড়ে দালালি সিন্ডিকেটে। মাত্র ১৩০ টাকা দৈনিক মজুরিতে কাজ করা নুরুল ইসলাম এখন ৪৬০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। রয়েছে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, গড়ে তুলেছে নামে-বেনামে একাধিক প্রতিষ্ঠান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এত সম্পত্তির বিষয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে নুরুল ইসলামকে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি সে করেছে, র‌্যাব তার সম্পত্তির যে মূল্য দেখিয়েছে তা বাস্তবের সঙ্গে মিল নেই। এ ছাড়াও মোহাম্মদপুর ও বছিলা এলাকায় জমি ও বাড়ির মূল্য এত বেশি নয়। সে এগুলো অনেক আগে কিনেছিল। তখন সেগুলোর দামও কম ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নুরুল ইসলাম খুবই ধুরন্ধর। কোনোভাবেই মুখ খুলছে না। মোহাম্মদপুরে তার নামে ছয়তলা বাড়ির সন্ধান পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে নূরুলের দাবি, এই বাড়ি তার বৈধ টাকায় করা। কিন্তু সেই বাড়ি কেনার জন্য এত টাকা সে কোথায় পেল তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এ ছাড়াও দীর্ঘদিন থেকে আমদানি ও রফতানি ব্যবসা রয়েছে তার এবং এই ব্যবসার মাধ্যমে সে এসব সম্পত্তি করেছে বলে দাবি তার।

মোহাম্মদপুর থানার এসআই গোলাম কিবরিয়া সময়ের আলোকে বলেন, আমরা তাকে মাদক মামলায় রিমান্ডে নিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে সে দাবি করেছে তার মাদক সংক্রান্ত কোনো ব্যবসা নেই। তার ঘর থেকে ৪৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো কীভাবে এলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তার এত সম্পত্তি সে আমদানি ও রফতানির ব্যবসা করে করেছে বলে দাবি করেছে।

নুরুলের ব্যাপারে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক রাকিবুল হাসান সময়ের আলোকে বলেন, আমরা তার সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্যের সন্ধান পেয়েছি। তাদের শিগগির গ্রেফতার করা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, টেকনাফ বন্দরে নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারি, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস ও দালালির কৌশল রপ্ত করে নুরুল ইসলাম। বন্দরে দালালির বিভিন্ন সিন্ডিকেট গড়ে অবৈধভাবে অর্জন করে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ। এ ছাড়াও স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে রয়েছে ১৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]