ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৩ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার কাছ থেকে মুজিবর্ষের উপহার পেলেন নির্মলেন্দু গুণ
সময়ের আলো অনলাইন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৪০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 11422

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার কাছ থেকে মুজিবর্ষের উপহার পেয়ে পুলকিত হয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কবি এবং চিত্রশিল্পী নির্মলেন্দু গুণ। এই পুরষ্কারকে তিনি মুজিব বর্ষের 'সেরা উপহার' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে করা এক ফেসবুক পোস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি এক টাইটান ঘড়ির ছবি পোস্ট করে নির্মলেন্দু গুণ লেখেন, 'ঘড়িটি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পক্ষ থেকে একজন বিশেষ দূত মারফত আমাকে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এমন সুন্দর একটা ঘড়ি ছিলো আমার কল্পনার অতীত। এই ঘড়ি হলো তুলনাহীন এক অমূল্য সম্পদ। মুজিববর্ষে এর চেয়ে সুন্দর উপহার আর কিছুই হতে পারে না।'

দেশের জনপ্রিয় এই কবি লেখেন, আমি ঘড়ি পরিনা গত চল্লিশ বছরের বেশিই হবে। অথচ এই আমি মেট্রিক পরীক্ষার পূর্বমুহূর্তে হঠাৎ একদিন ঘোষণা করে দিয়েছিলাম যে, আমাকে একটা হাতঘড়ি মানে Wrist Watch কিনে না দিলে চলতি বছরে [১৯৬২] আমি আর পরীক্ষা-টরীক্ষা দিব না। এক কান দুই কান করে আমার এই সিদ্ধান্তের কথা বাবার কানে পৌঁছালে, তিনি প্রমাদ গুনলেন। তিনি এই নিয়ে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসলেন না। তিনি জানতেন, আলোচনার টেবিলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।'

তিনি জীবনের প্রথম ঘড়ি কেনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে লেখেন, আমার পুত্রস্নেহে অন্ধ পিতা, কিছু জমি বন্ধক রেখে আমাকে নিয়ে ময়মনসিংহ শহরে যান এবং ১২০ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট এ্যন্ড কিউট ক্যাভেলরী ঘড়ি কিনে দিতে বাধ্য হন।
জানি আমার দাবী মানতে গিয়ে সেদিন আমার বাবার খুব কষ্টই হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি সেই কষ্ট ভুলে গিয়েছিলেন--যখন দুই বিষয়ে লেটার মার্ক নিয়ে আমি প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পাশ করলাম। তিনি নিশ্চিত জানতেন, ঘড়ি না কিনে দিলে, আমার এই ফললাভ কিছুতেই হতো না।

অথচ এই প্রিয় ঘড়ি তিনি ১৯৬৮ সালে জুয়ার টেবিলে নিলামে বিক্রি করে দেন। এরপর আর কখনও নিজের জন্য ঘড়ি কেনা হয়নি বলেও জানান এই কবি। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে প্রচুর ঘড়ি আমি কিনে এনেছি আমার ভাই-বোন, বন্ধুবান্ধব ও বিশেষ বিশেষ বান্ধবীদের জন্য। কিন্তু নিজের জন্য ঘড়ি? ভুলে যান।

উপহার হিসেবে পাওয়া ঘড়িগুলোও পরা হয়নি জানিয়ে নির্মলেন্দু গুণ লেখেন, ঐ (উপহার পাওয়া) ঘড়িগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি ঘড়ি কাউকে-কাউকে উপহার দিয়েছি। কয়েকটি দামী ব্রান্ডের ঘড়ি কাশবন ও কবিতাকুঞ্জের সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে। ইচ্ছে করলেই পরতে পারি, কিন্তু পরি না। সময়কে প্রত্যক্ষ করার চাপ আমি সইতে পারি না। ঘড়ি বা আংটি আমার হাতে খুব একটা মানায়ও না। আনস্মার্ট লাগে।

কিন্তু মুজিব বর্ষের এই বিশেষ ঘড়িটির ক্ষেত্রে তার অন্য রকম অনুভূতি হচ্ছে বলে জানান তিনি। নির্মলেন্দু গুণ লেখেন, গতকাল উপহার হিসেবে যে-ঘড়িটি পেয়েছি-- এই ঘড়িটি কেন যেন কিছুতেই আমার হাতছাড়া করতে ইচ্ছে করছে না। ঘড়িটি আমার সংগ্রহশালায় রাখার ওপরও ভরসা পাচ্ছি না। যে-বাঙালি শান্তনিকেতনের সুরক্ষাবলয় ভেদ করে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কারের স্বর্ণপদক চুরি করতে পারে, তাদের বংশধরদের কথা আমার বিবেচনায় রাখা দরকার বৈকি। বাংলাদেশে চোর-ডাকাতরা যে এখনও নিজেদের স্বাধীন বলে ঘোষণা করে বসেনি, এটাই কি যথেষ্ট নয়?'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে শেখ হাসিনার সহপাঠী ছিলেন নির্মলেন্দু গুণ। কবি নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে। ষাটের দশকের তরুণ কবিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। আজও তার কবিতা সমান জনপ্রিয়।


আরও সংবাদ   বিষয়:  প্রধানমন্ত্রী   শেখ হাসিনা   শেখ রেহানা   নির্মলেন্দু গুণ   মুজিববর্ষের উপহার  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]