ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৩ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

এই সময়ে শিক্ষার্থীদের করণীয়
জীবন যখন যেমন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:১৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 107

আবারও বেজেছে স্কুল-কলেজের ঘণ্টা। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত স্কুলের প্রাঙ্গণ। বেঞ্চ ও দেয়ালের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সখ্যতা আবার জমতে শুরু করেছে। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বাক্সবন্দি ইউনিফর্মও যেন গায়ে উঠে প্রাণ খুঁজে পেয়েছে। শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী আর অপেক্ষমাণ অভিভাবকের মুখে ফিরেছে হাসি। তবে শিক্ষার্থীদের পিছু ছাড়েনি করোনা।

বই ও ব্যাগের সঙ্গে মাস্ক আর স্যানিটাইজার হয়েছে নিত্যদিনের সঙ্গী। করোনা-ছুটি পরবর্তীতে স্কুলগুলোয় নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কোনো কোনো স্কুল জীবাণুমুক্ত হওয়ার ব্যবস্থাও রেখেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ক্লাসের নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুলে প্রবেশের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। লকডাউন পরবর্তী সময় বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা পাঠ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। খেলাধুলা বা টিফিনের কোনো সুযোগ নেই। ক্লাস করেই তাদের বাসায় যেতে হচ্ছে।

বিভিন্ন শিফটে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে আসছে ও যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি ও আগামী বছরের এসএসসি, এইচএসসি এবং চলতি বছরের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন চার পিরিয়ডের বেশি ক্লাস হচ্ছে না। প্রথম থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন করে ক্লাস পাচ্ছে।

লকডাউন পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. সোলায়মান কবীর বলেন, বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থী-শিক্ষকের স্বতঃস্ফূর্ত উৎসাহ-উদ্দীপনায় বেশ ভালোভাবে চলছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার শতকরা ৯৮ ভাগ। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে পাঠদান। হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহযোগে হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরিধান এবং টিফিন অন্যের সঙ্গে না শেয়ার করা, সর্বোপরি সচেতন থাকার মোটিভেশন প্রদান করা বাধ্যতামূলক। তবে আমরা ক্লাস নিচ্ছি তুমুল আনন্দঘন পরিবেশে। গান গাওয়া, আবৃত্তি এবং মজার মজার গল্পে ক্লাসকে আমরা মাতিয়ে তুলছি, সঙ্গে পাঠদানও চলছে সমানতালে। এ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দিতে হবে, স্বপ্ন দেখতেও তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখার প্রধান শাহরীমা চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশ। তাদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহও বেড়েছে। আপাতত কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে।  শিক্ষামন্ত্রী যে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন তা মানার চেষ্টা করছি। বেঞ্চ, টয়লেট সবকিছু পরিষ্কার করা হচ্ছে নিয়মিত। ডেঙ্গু মশার হাত থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করা হচ্ছে। দুই শিফটে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আনা হচ্ছে। বেঞ্চে বসানো হচ্ছে জিকজ্যাক করে। শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের গেট আলাদা করা হয়েছে।

এ সময়ে শিক্ষার্থীদের করণীয়
দীর্ঘদিনের অনলাইন ক্লাস শেষে সরাসরি স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে গিয়ে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেকেই নতুন ক্লাসে উঠে সহপাঠীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়নি।
এজন্য গড়ে ওঠেনি বন্ধুত্ব। তাই সহপাঠীকে আপন করে নিতে একজন আরেকজনের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারে। করোনাকালের নতুন জীবন উপভোগ করতে পারো স্বাস্থ্যবিধি মেনে নতুন রূপে।

অভিভাবকদের জন্য
অভিভাবকদের পড়ালেখা নিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। শুরুতেই শিক্ষার্থীকে চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। শিক্ষার্থীর এখন প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় না। যেসব দিনে স্কুল বন্ধ থাকবে, অভিভাবকেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ সঙ্গে সময় পার করুন। করোনাকালে পড়ালেখা যেমনই চলছে চলতে থাকুক। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নতুন রুটিনে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে সুযোগ দিন।

শিক্ষকদের জন্য
শিক্ষার্থীদের শুরুতেই পড়ালেখার বেশি চাপ প্রয়োগ না করে মানসিক অবস্থার প্রতি যত্নবান হতে পারেন। নতুন পরিস্থিতিতে কীভাবে পড়ালেখায় অভ্যস্ত হবে সে বিষয়ে বন্ধুর মতোই সহযোগিতা করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলে কীভাবে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখবে সে বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]