ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৩ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শতভাগ বিদ্যুতের দেশ : সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:১৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 76

বাংলাদেশের জন্য বড়ই আনন্দের সংবাদ। শতভাগ বিদ্যুতের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের দিকে জোর দেয়। যার সুফল পাচ্ছে সারা দেশের মানুষ।

বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার সরকারের অঙ্গীকার সফলতায় রূপ নিয়েছে। বিদ্যুৎ ছাড়া কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শুধু শহরই ছিল না, বরং লক্ষ্য ছিল গ্রামগঞ্জের প্রতিটি ঘরেই বিদ্যুৎসেবা পৌঁছে দেওয়া। সরকার বিদ্যুতের বহুমুখীকরণেও গুরুত্বারোপ করেছিল। সোলার পাওয়ার প্লান্ট, পরমাণু ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, আবার প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ এনে এ খাতকে গতিশীল করা হয়েছে। বিদ্যুতের বহুমুখী উৎপাদনের ফলে আজ প্রতিটি ঘর আলোর ঝলকানিতে উদ্ভাসিত।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, সারা দেশের ৯৯.৫০ শতাংশের বেশি মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু মানুষ এখনও বিদ্যুৎ সুবিধার আওতার বাইরে রয়েছে। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে তারাও বিদ্যুৎ পেয়ে যাবে। বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯ লাখ। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে তা ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোটের খাম্বা ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। এখন আমরা ২৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি জনগণকে সহনীয় মূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলছে। পদ্মা নদীর দুর্গম চরের মানুষকে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২১ হাজার ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। ভোলার বিচ্ছিন্ন ১১টি চরের মানুষদের জন্য বিদ্যুতের লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৬টি চরে ৯ হাজার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্গম পাহাড়ে বিদ্যুতের লাইন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেছেন, ডিসেম্বরের আগেই সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়াও সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ৪৫ লাখ সোলার প্যানেল ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলে এসেছে। এই উৎপাদনের ফলে মানুষ গ্রামে বসে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। তাতে করে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা সামসুল আলম বলেন, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ভোক্তাকে কম দামে বিদ্যুৎ দেওয়ার পদক্ষেপই আসল কাজ।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মুজিববর্ষেই শতভাগ বিদ্যুৎ আমাদের দেশকে আলোকোজ্জ্বল করে তুলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে মঙ্গার মতো লোডশেডিং উধাও হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শতভাগ বিদ্যুৎসেবা দেশে পরিণত হওয়ায় আমাদের পক্ষ থেকে তাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ায় বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট আলোর ফেরিওয়ালাদের আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]