ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৩ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সুরা ইখলাসের বিশেষ ফজিলত
আব্দুল্লাহ আল মাসউদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:০২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 83

পবিত্র কোরআনের ক্ষুদ্রতম একটি সুরা হলো ‘সুরা ইখলাস’। অন্যান্য সুরার তুলনায় গুরুত্ব, মহত্ত্ব ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি অনন্য। সংক্ষিপ্ত পরিসরে আল্লাহর পরিচয় এত সুন্দরভাবে অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। হাদিসে সুরা ইখলাসের এত অধিক ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে যে, সুরা ফাতিহা ছাড়া অন্য কোনো সুরার ক্ষেত্রে যা বর্ণনা করা হয়নি।

সুরা ইখলাসকে পবিত্র কোরআনের এক তৃতীয়াংশের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) সাহাবিদেরকে বললেন, ‘তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কোরআন পড়তে পারো না?’ প্রস্তাবটি সাহাবিদের জন্য কঠিন মনে হলো। তাই তারা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এই কাজ করতে পারে, আমাদের মধ্যে এমন সাধ্য কার আছে?’ তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ (সুরা ইখলাস) কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।’ (অর্থাৎ এই সুরা পড়লে এক-তৃতীয়াংশ কোরআন পড়ার সমান নেকি পাওয়া যাবে)।’ (বুখারি : ৫০১৫)

যে ব্যক্তি অন্তর থেকে সুরা ইখলাসের প্রতি ভালোবাসা রাখবে সে আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা লাভ করবে। হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) একজন সাহাবিকে একটি যুদ্ধের সেনাপতি বানিয়ে পাঠালেন। তিনি সাহাবিদের নিয়ে জামাতে ইমামতি করতেন। নামাজে তিনি সুরা ফাতেহার সঙ্গে অন্য সুরা মিলানোর পর প্রতি রাকাতের শেষে সুরা ইখলাসও পাঠ করতেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে সাহাবিরা রাসুল (সা.)-কে বিষয়টি জানালেন। রাসুল (সা.) তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করতে বললেন। তারা এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, সুরা ইখলাসে আল্লাহর মৌলিক গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে। আমি এ সুরাকে ভালোবাসি। তার এ কথা শুনে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তাকে সুসংবাদ দাও যে, আল্লাহ তায়ালাও তাকে ভালোবাসেন।’ (বুখারি : ৬৮২৭)

এক হাদিসে এসেছে, প্রিয়নবী (সা.) এক সাহাবিকে সুরা ইখলাস তেলাওয়াত করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন ‘সে ওযাজিব করে নিয়েছে’। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সে কী ওয়াজিব করে নিয়েছে?’ নবীজি উত্তরে বললেন- ‘জান্নাত ওয়াজিব করে নিয়েছে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৭৬৬৯)।

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দশবার সুরা ইখলাস পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। যে বিশবার পড়বে তার জন্য দুটি এবং ত্রিশবার পাঠকারীর জন্য জান্নাতে তিনটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।’ তখন হজরত ওমর (রা.) বললেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাহলে আমরা অনেক প্রাসাদ নির্মাণ করতে চাই! রাসুল (সা.) বললেন- ‘আল্লাহ তায়ালা বেশিই দান করবেন এবং উত্তমরূপে দান করবেন।’ (তাবরানি আওসাত : ২৮১; আল-জামিউস সগির : ৬৪৭২)। অর্থাৎ বেশি বেশি সুরা ইখলাস পাঠ করলে বান্দার জন্য জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামত লাভ সহজ হয়ে যাবে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]