ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৩ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সচেতনতাই পারে সাইবার বুলিং বন্ধ করতে
মৌমিতা চক্রবর্তী
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:৫০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 97

প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে যেমন মানুষ উপকৃত হচ্ছে তেমনি, এর অভিশাপও মানুষ ভোগ করছে। মানুষ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় যেমন- ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসআপ বিভিন্নভাবে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সাইবার বুলিং তাদের মধ্যে অন্যতম। সাইবার বুলিং বলতে সাধারণত অনলাইনে দুজন ব্যক্তির মধ্যে তর্ক বা কথাকাটাকাটির জেরে একজন ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্টভাবে সবার সামনে দোষারোপ বা খারাপ ভাষায় আক্রমণ করা বোঝায় মানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে খারাপ ভাষায় বা খারাপভাবে কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণই হলো সাইবার বুলিং।

তাহলে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হেয়প্রতিপন্ন করা, ভয় দেখানো বা মানসিক নির্যাতন বা অন্যায় কোনো কিছুতে প্রলুব্ধ করাই হলো সাইবার বুলিং। একজনের ছবি বা ভিডিও বিকৃত করে অনলাইনে তুলে ধরাও বুলিংয়ের মধ্যে পড়ে। নারীরা ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়। কিশোর-কিশোরীরাই প্রথম দিকে এ ধরনের হয়রানির শিকার হলেও এখন মধ্য বয়সিরাও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। ইউনিসেফের এক জরিপ দেখা যায়, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া ৩৮ শতাংশ মানুষের বয়স ১০ থেকে ১৩ বছর; ৩৬ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছর এবং ২৫ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছর। ঢাকায় অনলাইনে হয়রানির শিকার নারীদের ৭০ শতাংশের বয়স ১৫। বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের ওপর চালানো এক জরিপের বরাত দিয়ে ২০১৭ সালে বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়- এসব দেশে সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, দেশের তিন-চতুর্থাংশ নারীই সাইবার বুলিংয়ের শিকার। খুব অল্পসংখ্যক মানুষই অনলাইনে নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করে অভিযোগ করেন। বাকিরা ভাবেন অভিযোগ করলেই সমাজ তাদের দিকে আঙুল তুলবে এবং তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় কমেন্টে নোংরা ভাষায় গালি দেওয়া, ব্যক্তিকে হেয় করে কথা বলা তো আছেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন না এমন মানুষ বর্তমানে কম। শহর থেকে গ্রাম সবাই প্রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। অনেকেই না জেনে বুঝেও সাইবার বুলিং করেন। সেজন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সম্পর্কে সবার একটা জ্ঞান থাকা জরুরি।

সাইবার বুলিং ছাড়াও মোবাইল ফোন বা ইমেইলেও এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এসবের ফলে মানুষের মধ্যে হতাশা, আত্মহত্যা, হীনমন্যতা, নিজেকে ছোট ভাবা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, অনিদ্রা ইত্যাদি নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।

সাইবার বুলিংয়ে চুপ থাকলে বড় ক্ষতি হতে পারে। সম্মান হারানোর ভয়ে অনেকেই চুপ থাকেন বা প্রকাশ করেন না। অপরাধীরা ফলে আরও বেশি সুযোগ পায়। তারা আর্থিক সুবিধা আদায় করতে একসময় ভিকটিমকে যৌন নির্যাতনের ফাঁদেও ফেলে। সাইবার বুলিং প্রতিরোধে বাবা-মাকে সন্তানের বন্ধু হয়ে উঠতে হবে। একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য কেন সবার সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না- এগুলো সন্তানদের বুঝিয়ে বলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সব প্রাইভেসি বজায় রেখে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য পরিচিত জন ছাড়া কাউকে শেয়ার করা উচিত নয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করতে হবে।
আপনার সন্তান কিংবা আপনার পরিবারের কোনো সদস্য সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে কিনা তার ডিভাইস পর্যবেক্ষণ করে অনুমান করতে পারেন। ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে যাওয়া, ঘনঘন মেসেজ করা বা মেসেজের রিপ্লাই দেওয়া, লুকিয়ে ডিভাইস ব্যবহার করা, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাভয়েড করা বা ডিপ্রেসড হয়ে যাওয়া এসব লক্ষণ দেখলে এ আচরণগুলোকে গুরুত্ব নিয়ে দেখুন। আপনি যদি একজন অভিভাবক হয়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার সন্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আচরণ লক্ষ করুন। অস্বাভাবিক আচরণ প্রত্যক্ষ করলে খেয়াল রাখুন। কথা বলে জানার চেষ্টা করুন কী ঘটেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত জানার চেষ্টা করুন। কোথায় কী ঘটছে তার প্রমাণ রাখুন। সম্ভব হলে খারাপ পোস্ট বা কমেন্টের স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন। বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা বলে যে বুলিং বারবার সংঘটিত হয় এমন একটি অপরাধ; সুতরাং আপনি প্রমাণ রাখার সুযোগ নিশ্চয়ই পাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব রিপোর্টিং পদ্ধতি আছে। সেগুলো অনুসরণ করুন। প্রয়োজনে সেই সাইটে যোগাযোগ করে অফেনসিভ কনটেন্টটি রিমুভ করার জন্য বলুন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার কোনো ভিকটিমের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে পরিবারের সাপোর্ট। আপনার পরিবারের জুনিয়র সদস্যটির অস্বাভাবিক আচরণে ক্ষুব্ধ না হয়ে তার সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করুন। সাহস জোগান, মনোবল অটুট রাখতে উৎসাহিত করুন। যদি বিষয়টি পারিবারিক গণ্ডির বাইরে চলে যায়। তবে আইনের আশ্রয় নিতেই হবে। সঙ্গে রাখতে হবে হয়রানির প্রমাণও। স্ক্রিনশট কিংবা মেসেজ। একটু সচেতনতাই পারে সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধকে বন্ধ করে দিতে।

লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]