ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৩ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শিশুদের কাছ থেকে শিখুন
হারুন উর রশীদ
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯:০৯ এএম আপডেট: ১৩.০৯.২০২১ ৯:১০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 327

দেড় বছর পর স্কুল-কলেজ খোলার দিনে শিশুদের নিয়ে আমার এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা হয়েছে। আর সেই অভিজ্ঞতায় আমি মুগ্ধ, বিমোহিত, আলোড়িত। মনে হয়েছে, আমাদের এখন শিশুদের কাছ থেকে শেখা উচিত।

স্কুল খোলার প্রথম দিনে গতকাল আমি পেশাগত কারণেই উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাই সকাল পৌনে ৮টার মধ্যে। সকাল ৮টায় ক্লাস শুরু। স্কুলের বাইরে শিশুদের তখন লাইন শুরু হয়ে গেছে। সবার মুখে মাস্ক। তারা লাইন ধরেছে সঠিক দূরত্ব রেখেই। স্কুলে ঢোকার আগে সবাই স্যানিটাইজার দিয়ে না বললেও হাত জীবাণুমুক্ত করে নেয়। তাদের মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না। কাউকে পেছনে ফেলে বিধি ভেঙে কেউ আগে যাওয়ারও চেষ্টা করেনি। এ দৃশ্য আমাকে আন্দোলিত করে। আমাকে অভিভূত করে। কিন্তু আরও যে বিস্ময় আমার জন্য অপেক্ষা করছে তা জানা ছিল না।

স্কুল শুরুর ঘণ্টা বাজল। আমি তৃতীয় শ্রেণির একটি ক্লাসে ঢুকলাম। সেখানে তারা সবাই আগের মতো নয়, দূরত্ব বজায় রেখে বসেছে। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। আমি শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই এক শিশুর কাছে জানতে চাইলাম সে মাস্ক কেন পরেছে, না পরলে কী হবে? চোখ খুলে দেওয়া জবাব দিল। বলল, ‘মাস্ক আমাদের পরতেই হবে। করোনা থেকে বাঁচতে আমি মাস্ক পরেছি।’

হাতে কী করতে হবে? জবাব, ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার মাখতে হবে।’ পাশ থেকে আরেক শিশু বলল, ‘নিয়মিত হাত ধুতেও হবে।’

এই সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে কোলাকুলি, হ্যান্ডশেক করবে না? ‘না, একদম না’- শিশুরা সমস্বরে জবাব দিল।
 
আমি স্কুলে প্রবেশের সময় স্কুল আঙিনায় এবং ক্লাসে তাদের কাউকে আরেকজনের কাছাকাছিও যেতে দেখিনি।

শিক্ষকও দেখলাম ওদের চাঙ্গা করার জন্য নানা গল্প বলছেন। আর তাতে তারা বেশ মজা পাচ্ছে। তাদের মানসিক চাপ কমছে। তারা হাসছে।

এরপর আরেকটি ক্লাসে গেলাম। শেখানে শিশুরা সব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্লাস করছে। আমি তাদের প্রশ্ন করলাম, তোমাদের কাছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে? তারা শুধু হ্যাঁ বলেই থামল না। সবাই ব্যাগ থেকে স্যানিটাইজার বের করে দেখাল। আরও অবাক করা ব্যাপার হলো, সবার কাছে বাড়তি মাস্কও আছে ব্যাগে।

এক শিশু স্যানিটাইজার আনতে ভুলে গেছে। আমার মনে হলো সে কিছুটা লজ্জা পেয়েছে। মুখ নিচু করে আছে সে। আমি তাকে স্বাভাবিক করার জন্য বললাম, কোনো সমস্যা নেই ‘মা’। তোমার বন্ধুরা তোমাকে দেবে। পাশের সহপাঠী দূরত্ব বজায় রেখে তাকে তখনই স্যানিটাইজার এগিয়ে দিল। তারা অনেকেই বলে উঠল, ‘আমরা আমাদের বন্ধুদের সহায়তা করব।’ শিশুরা শিশুদের জন্য।

আমি জানি শিশুদের এই নিয়ম মানা, করোনাকে মোকাবিলা করে স্কুলে আসা, মাস্ক পরা, এই প্রশিক্ষণ এবং ভাবনা অভিভাবকরাই সঞ্চারিত করেছেন তাদের মধ্যে। আর নানামুখী প্রচারেও তারা আত্মস্থ করেছে। তবে যেটা আসল কথা তা হলো, শিশুরা যা শিখেছে তা মেনেছে। তা করে দেখিয়েছে। পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনেছেন।

কিন্তু আমরা অভিভাবকরা কী করেছি? এই শিশুদের স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানিনি। জটলা করেছি। বাজার বসিয়েছি স্কুল-কলেজের সামনে। কয়েকটি স্কুলের সামনে আমরা যা করেছি তা শিশুদের কাছে আমাদের লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরও বলেছে অভিভাবকদের এ ধরনের আচরণ করোনা সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। আর তাই যদি হয়, করোনার কারণে স্কুল-কলেজ আবার যদি বন্ধ হয়ে যায় তা হলে তার দায় কে নেবে? এই শিশুদের কাছে আমরা কী জবাব দেব?

তাই বলছি, শিশুদের কাছ থেকে শিখুন। ওরা শুধু জানেই না, জানা বিষয় মানেও; কিন্তু আমরা মানি না। আমাদেরও মানতে হবে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, সময়ের আলো




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]