ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:২৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 146

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। বন্যা ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ। ইতোমধ্যে নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়েছে দুই হাজার পরিবার। পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর জমির আমন ধান, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এতে হাজারো কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন। অবশ্য বন্যার পানি কমতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতি কম হবে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে।

ফুলছড়ি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিই মূলত চর। বন্যায় ৫টি ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এবারের বন্যায় উপজেলার ২ হাজার ৩৯টি পরিবার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের শিকার হয়ে তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ হাজার ৫১৩টি পরিবার। নিঃস্ব এসব মানুষ ঠাঁই নিয়েছে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও জেগে ওঠা চরসহ বিভিন্ন এলাকায়।

সবচেয়ে বেশি ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো হচ্ছে- উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষিরভিটা, মধ্য উড়িয়া, গজারিয়া ইউনিয়নের গলনা, ঝানুঝাইর, ভাজনডাঙা, ফুলছড়ি ইউনিয়নের পিপুলিয়া, পূর্ব গাবগাছি, টেংরাকান্দি, বাজে ফুলছড়ি, বাগবাড়ী, ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী, কুচখালী, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ডাকাতিয়ার চর ও জিগাবাড়ী গ্রাম।

কৃষকরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ধানগাছ পচতে শুরু করেছে। এদিকে ফসল হারিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা নেমে এসেছে। বেশিরভাগ কৃষক এনজিও, ব্যাংক অথবা চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণে টাকা এনে ধানের আবাদ করেছে। এখন বন্যায় ফসলহানিতে তারা দুই চোখে অন্ধকার দেখছে। গজারিয়া ইউনিয়নের গলনা গ্রামের ফুল মিয়া (৬০) বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে গলনা গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলাম। চরের মধ্যে যেটুকু জমি ছিল তা দিয়ে ভালোই সংসার চলত। কিন্তু এবারের ভাঙনে আর শেষ রক্ষা হলো না। তিনি আরও বলেন, ঘরের সব জিনিস নিতে পারিনি। হাতের কাছে যা পেয়েছি তাই নৌকায় তুলে নিয়েছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠব ভেবে পাচ্ছি না।

গজারিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাসান আলী বলেন, গলনা গ্রামে প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস। এ বছর নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন ক্রমেই বাড়তে থাকে। কয়েকদিন আগে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে একটি গুচ্ছগ্রামসহ ২০০ পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। লোকজন তাদের বাড়িঘর সরানোর সময় পাচ্ছেন না।

ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মণ্ডল বলেন, নদীভাঙনের কবলে পড়ে পিপুলিয়া গ্রামের ৪৬৩টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তাদের পুনর্বাসন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিপুণ দেবনাথ বলেন, বন্যায় চরাঞ্চলের ফসলের ক্ষেত তলিয়ে থাকায় কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হবে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ফসল ও বন্যাপরবর্তী করণীয় বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান দোলন বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]