ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

গাইবান্ধায় ঝরে পড়েছে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:৫১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 142

করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রভাবে প্রায় ১৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জেলার ৩৫৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। তাদের কোনো হদিস নেই। এর অন্যতম কারণ হিসেবে বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম, পরিবারের সদস্যদ্যের সঙ্গে অন্যত্র যাওয়াকে মনে করছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। আর অভিভাবকরা মনে করেন, শিক্ষকদের নিয়মিত খোঁজখবরের অভাব, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা আর দরিদ্রতার কারণে পড়ালেখায় আগ্রহ হারিয়েছে এসব শিক্ষার্থীরা।

গাইবান্ধার সাঘাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২ জন ছাত্রীর অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে ১৩০ জন। আবার নবম শ্রেণিতে ২২০ জন ছাত্রীর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করেছে ১৭২ জন। সাঘাটা পাইলট হাইস্কুলের চিত্রও একই। এই বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর অষ্টম শ্রেণিতে ২০৫ জনের মধ্যে পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১৫৩ জন আর নবম শ্রেণিতে ২২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করেছেন ২০০ জন। বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক আনিছুর রহমান জানান, বাড়িতে যোগাযোগ করে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অনেকে কাজের সন্ধানে অন্যত্র গিয়েছে। যার ফলে অনেক চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করানো সম্ভব হয়নি।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া গণ-উন্নয়ন একাডেমির প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, অষ্টম শ্রেণিতে ৮৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলতি বছর পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে ৪৫ জন এবং নবম শ্রেণিতে ৯৯ জনের মধ্যে ৪৩ জন রেজিস্ট্রেশন করেছে। তিনি বলেন, করোনায় স্কুল বন্ধ আর নদীভাঙনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে চলে যাওয়ার কারণে তাদের খোঁজ মিলছে না।

জেলার কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর অবস্থাও একই। গাইবান্ধার জুমারবাড়ি ডা. আ. রাজ্জাক শিশু নিকেতনের অষ্টম শ্রেণিতে ২০৫ জনের মধ্যে ১৫৩ জন রেজিস্ট্রেশন করেছে আর নবম শ্রেণিতে ২২২ জনের রেজিস্ট্রেশন করেছে ২০০ জন। এই বিদ্যালয়ের পরিচালক রেজাউল ইসলাম জানান, ১৮ মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা অন্যত্র চলে গেছেন। এ কারণে কিছুদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা গেলেও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত যোগযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, বাল্যবিয়ে ও কাজের সন্ধানে শিক্ষার্থীরা অন্যত্র যাওয়ায় তাদের সন্ধান মিলছে না।

সদর উপজেলার জিইউকে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা নাজনীন বলেন, বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের। কাজের সন্ধানে সেই পরিবারগুলো এলাকা ছাড়া হয়েছে আর মেয়ে শিশুরা বিয়ে করে স্বামীর বাড়িতে চলে গেছে।

সাঘাটা বালিকা বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রেজিস্ট্রেশন না করা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেছে। এ কারণে পড়ালেখার প্রতি তাদের আগ্রহ নেই এবং বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়াবাড়ি চরের আব্দুল বারেক সরকারের দুই সন্তান অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। কিন্তু অভাবের কারণে গতবছর ঢাকায় একটি কোম্পানিতে কাজ করতে যান। স্বল্প উপার্জনে দুই সন্তানের পক্ষে আর পড়ালেখায় ফিরে আসা সম্ভব না বলে জানান ওই অভিভাবক। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম জানান, চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মাইগ্রেশন ও শিশু বিয়ের সম্ভাবনা থাকলেও মেইনল্যান্ডের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণে রেজিস্ট্রেশন না করার চিত্র অত্যন্ত দুঃখজনক।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এনায়েত হোসেন জানান, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা কৌশলে তাদের বিয়ে দিয়েছেন। আর দরিদ্র পরিবারের ছেলে শিক্ষার্থীরা কাজের জন্য ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ যাওয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে, তিনি মনে করেন বিদ্যালয় চালু হলে শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে ফিরে আসবে এবং ঝরে পড়ার হারও অনেক কমে আসবে।

/জেডও/








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]