ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

টিউবওয়েল চাপলেই গরম পানি
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:২৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 202

আশ্চর্য হলেও সত্যি। নিরাপদ খাবার পানির জন্য বসানো হয়েছিল সাবমারসিবাল গভীর টিউবওয়েল। কিন্তু ওই টিউবওয়েলটি চালু করলেই উঠছে গরম পানি। পানি গরম হওয়ায় ফেটে যাচ্ছে প্লাস্টিকের পাইপ। সেই পানি হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেখানে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন। এলাকার মানুষের দাবি ভালোভাবে খোঁজখবর নিলে এখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের ওই গ্রামে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় শফিউল আলম বাবুর বাড়িতে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস থেকে নিরাপদ ও সুপেয় পানির জন্য ৫৪৫ ফিট গভীর একটি সাবমারসিবাল গভীর টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়। কয়েকদিন ঠান্ডা পানি ওঠার পর ওই টিউবওয়েল থেকে গরম পানি বের হওয়া শুরু হয়। এ থেকে রেহাই পেতে একটির পরিবর্তে দুটি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। তবু পানির কোনো পরিবর্তন আসেনি।

গ্রামের বৃদ্ধ মো. সুমন মিয়া ও আব্দুল্লাহ আল কাদির সময়ের আলোকে জানান, ‘একটি বা দুটি নয়, মণ্ডলপাড়ার প্রায় ১০-১১টির বেশি টিউবওয়েল থেকে দীর্ঘদিন ধরে গরম পানি উঠছে। আর এটি দেখতে দূর থেকে প্রতিদিন মানুষ এসে ভিড় করছেন।’

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক জয়নাল ইসলাম বলেন, ‘বাবু ভাইয়ের বাড়ির সামনের এই গভীর টিউবওয়েল চালু করলে প্রথম এক মিনিট পানি হাতে ছোঁয়া যায়। এরপরই ফুটন্ত গরম পানির মতো পানি বের হতে থাকে। হাতে বা শরীরে লাগালে অনেক সময় ফোসকা পড়ে যায়।’

মণ্ডলপাড়ায় কতদিন থেকে গরম পানি আসছে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম নামের একজন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেখছি আমাদের গ্রামের টিউবওয়েলে গরম পানি বের হয়। এই পানি অন্য এলাকার পানির মতো খেতে স্বাদ লাগে না। সাবানের পানির মতো পানি, অনেকটা পিচ্ছিল এবং গন্ধটাও অন্যরকম।’

শফিউল আলম বাবু অভিযোগ করে বলেন, ‘ঠান্ডা পানি পাওয়ার আশায় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে ধরনা দিয়ে ৫৪৫ ফিট গভীর সাবমারসিবাল গভীর টিউবওয়েল বসিয়েছি। তবু ঠান্ডা পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বরং এই গভীর টিউবওয়েল থেকে আরও বেশি গরম পানি বের হচ্ছে।’

চন্দনপাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, আসলেই সেখানকার পানি অত্যধিক গরম এবং এলাকার মানুষ বলছে প্রশাসনিকভাবে তদারকি করলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে রংপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী পঙ্কজ কুমার বলেন, রংপুরে এটি নতুন সমস্যা। জিওলজিক্যাল সমস্যার কারণে এটি হতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আসলে এখানকার পানি দূষিত কি না বা এখানকার মাটির নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে কি না তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

/জেডও/






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]