ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ফ্রি ফায়ার ও পাবজি বন্ধ করা কতটা সম্ভব?
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:২৫ এএম আপডেট: ০৮.০৯.২০২১ ১২:২৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 135

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও হরদম চলছে অনলাইনভিত্তিক জনপ্রিয় গেম ফ্রি ফায়ার ও পাবজি। এগুলো আদৌ বন্ধ করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কে (ভিপিএন) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবহারকারীরা গেম দুটি খেলতে পারছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবজি-ফ্রি ফায়ার একেবারে বন্ধ সময়সাপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জিং। গেম দুটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা বিটিআরসির নেই।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের ক্যাশ সার্ভার ও চ্যানেলে যেগুলো ছিল সেগুলো আমরা বন্ধ করেছি। কিন্তু ভিপিএন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, ভিপিএন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভবও না। কারণ ভিপিএনে যে শুধু গেম খেলা হয় তা কিন্তু নয়, এখানে অনেক অর্থনৈতিক বিষয়ও আছে। এ ছাড়া আমাদের সঙ্গে তাদের এমন কোনো চুক্তি নেই, নেগসিয়েশনের মাধ্যমে হয়। 

আমার জানা মতে, ভিপিএন ছাড়া অন্য কোনো অ্যাপ দ্বারা এটি খেলা সম্ভব না। তবে এখন গেম দুটি ভিপিএন দিয়ে খেলতে গেলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের কারিগরি টিম কাজ করছে, কাজ শেষ হলে বুঝব আসলে কী করা যায়। লাইকি-টিকটক  বন্ধেও কার্যক্রম চলছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গেমার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে আমি ফ্রি ফায়ার ও পাবজি খেলছি কিন্তু গেম দুটি বন্ধ থাকায় এখন আর খেলতে পারছি না। তবে আমার বন্ধুরা ভিপিএন দিয়ে খেলছিল, ২৪ ঘণ্টা পর তাদের আইডি লক করে দেওয়া হয়েছে। নেটও অনেক স্লো দেখায়। যে কারণে কয়েকদিন ধরে খেলতে পারছে না।’

আশিকুর রহমান নামে এক গেমার বলেন, ‘বন্ধ ঘোষণার দিনও আমি এটি খেলতে পেরেছি। এমনকি এখনও খেলছি। সাইটে ঢুকলে এটির লিঙ্কে ঢুকতে সমস্যা হয়। ভিপিএন দিয়ে খেলছি, সে ক্ষেত্রে নেট একটু স্লো দেখায়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ভিপিএন দিয়ে গেম খেললে আইডি ব্লক করে দেয়। সে ক্ষেত্রে একটি ফেক আইডি খুলে সেটি দিয়ে লগইন করিম তাহলে মূল আইডি ব্লক হওয়ার ঝুঁকি নেই।’ 

ইমরান নামে এক গেমার বলেন, ‘একটি ফ্রি ফায়ার ও পাবজি খেলার অন্তত ছয়টি ভার্সন আছে। সেগুলো তো বন্ধ হয়নি। আমাদের দেশের একটা ভার্সন বন্ধ করা হয়েছে। আমরা গ্লোবাল ভার্সনে গেম খেলি।’

ফ্রি ফায়ার ছিল ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক ডাউনলোড করা মোবাইল গেম। জনপ্রিয়তার কারণে গেমটি ২০১৯ সালে গুগল প্লে-স্টোর দ্বারা ‘সেরা জনপ্রিয় ভোট গেম’-এর জন্য পুরস্কার পেয়েছিল। ২০২০ সালের মে পর্যন্ত ফ্রি ফায়ারের বিশ্বব্যাপী দৈনিক ৮ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী ছিল যা রেকর্ড তৈরি করে।
গেরিনা বর্তমানে ফ্রি ফায়ারের উন্নত সংস্করণে কাজ করছেন যা ফ্রি ফায়ার ম্যাক্স নামে পরিচিত। গেমটি অন্য খেলোয়াড়কে হত্যা করার জন্য অস্ত্র এবং সরঞ্জামের সন্ধানে একটি দ্বীপে প্যারাসুট থেকে পড়ে আসা ৫০ জন ও তার অধিক খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে। 

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চে বন্দুক দিয়ে মসজিদে মুসলমানদের হত্যা এবং সেই দৃশ্য ফেসবুক লাইভের বিষয়টি অনেকেই পাবজির সঙ্গে তুলনা করেন। সম্প্রতি নেপালে পাবজি নিষিদ্ধ করেন দেশটির আদালত। একই কারণে ভারতের গুজরাটেও এ গেম খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি গেমটি খেলার জন্য কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

অনলাইন গেম ‘প্লেয়ার আননোনস ব্যাটলগ্রাউন্ডস’ (পাবজি)। সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব ও শিক্ষার্থী-কিশোর-কিশোরীদের সহিংস করে তুলছে এমন আশঙ্কা থেকেই গেমটি বন্ধ করা উচিত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পাবজি গেমটির মোবাইল ভার্সনে একসঙ্গে অনেকজন মিলে অবতরণ হয় এক যুদ্ধক্ষেত্রে। যতক্ষণ না পর্যন্ত একজন সিঙ্গেল সেনা বেঁচে থাকছে যুদ্ধে ততক্ষণ খেলে যেতে হয়। ২০১৮ সালে অ্যাংরি বার্ড, টেম্পল রান, ক্যান্ডি ক্রাশের মতো গেমগুলোকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন গেমের তালিকায় শীর্ষে জায়গা করে নেয় পাবজি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, করোনা মহামারির কারণে স্কুল, কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ। অনলাইনে ক্লাস হওয়ার ফলে অভিভাবকরা সন্তানদের হাতে সহসা ল্যাপটপ-মোবাইল তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সুযোগের বেশিরভাগ অপব্যবহার ঘটছে। এমনকি তরুণ প্রজন্ম এই গেম দুটির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। চাইলেই এই গেম দুটি বন্ধ করা সম্ভব নয়। ভিপিএনে এগুলো খেলা যায়। ভিপিএন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিয়ন্ত্রণ হয়। একটি বন্ধ হলে অন্য আরেকটি গেম বের হবে। বন্ধ কোনো সমাধান নয়। বিকল্প চিন্তা করতে হবে। চীনে সরকারিভাবে কিশোরদের প্রতিদিন ১ ঘণ্টা করে গেম খেলতে দেওয়া হয়। আমাদের দেশেও সবকিছু নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। আমাদের খেলার মাঠ কম। কিশোররা কী করবে? আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গেম তৈরি করা যেতে পারে। তাতে দেশ সম্পর্কে তারা ধারণা নিতে পারবে। 

এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৬ আগস্ট ক্ষতিকারক অনলাইন গেমের সব ধরনের লিঙ্ক বা ইন্টারনেট গেটওয়ে তিন মাসের জন্য বন্ধের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের দেওয়া রুলে দেশের অনলাইন প্ল্যাটফরম থেকে পাবজি, ফ্রি ফায়ার, লাইকি ও বিগো লাইভের মতো গেম ও অ্যাপের সব ধরনের লিঙ্ক বা ইন্টারনেট গেটওয়ে নিষিদ্ধ বা অপসারণ বা ব্লক করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। আদালত অনলাইন গেম অ্যাপ নিয়মিত তদারকি এবং এ বিষয়ে নির্দেশিকা (গাইডলাইন) তৈরি করতে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল দিয়েছেন। গত ২৪ জুন মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে রিটটি দায়ের করা হয়েছিল।


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফ্রি ফায়ার   পাবজি   




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]