ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত সবার আগে
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১, ১০:৩০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 106

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য গত বছরের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। বেশ কয়েক ধাপ বাড়ানোর পর আগামী ৩০ মার্চ স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক বছর পর শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আবারও পিঠে ব্যাগ নিয়ে ছুটবে শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরা উচ্ছ¡াসে অপেক্ষায় থাকবেন কখন তার বাচ্চাটা স্কুল থেকে বের হচ্ছে। গত এক বছর এই চিরচেনা দৃশ্যগুলো যেন হারিয়ে যেতে বসেছিল। শিক্ষার্থীরাও প্রতীক্ষার প্রহর গুনছিল কখন খুলবে স্কুল। সেই প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে আগামী ৩০ মার্চ। প্রাক-প্রাথমিক বাদে পর্যায়ক্রমে সব শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। পঞ্চম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কার্যক্রম শুরু হবে। পরে রুটিন করে অন্য সব শ্রেণির ক্লাস সপ্তাহে এক দিন করে নেওয়া হবে।
তবে সবার আগে সতর্কতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুরক্ষার বিষয়টি সবার আগেÑ এমনটাই বলছেন শিক্ষাবিদরা। এ বিষয়গুলোকে আগে বিবেচনায় নিতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে সবাইকে। শুধু সরকারের একার ওপর দায় চাপিয়ে দিলে হবে না। সবাইকে সচেতন হতে হবে, দায়িত্বশীল ভ‚মিকা পালন করতে হবে।
তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ সবার পরামর্শ হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হলে সবার আগে প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি সুনিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর আবার বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতি যেন না হয়। সবার আগে বেশ কিছু কাজ করতে হবে। প্রথম হচ্ছে সরকার ও স্বাস্থ্য পরামর্শকদের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত মনিটরিং ও পর্যালোচনা করতে হবে। সরকারকে জানাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সুরক্ষার বিষয়টিকেও সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের টিকার আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে হবে, তার শিক্ষার্থী স্কুলে নিরাপদ এবং তার শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সবার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে।
জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-আর-রশিদ বলেন, বিশ^ব্যাপী করোনার ছোবলকে অস্বীকার করাটা সমীচীন হবে না। গত এক বছরের মধ্যে পরিস্থিতি আমাদের দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। আশা করছি আরও উন্নতি ঘটবে। ধীরে ধীরে উন্নতি হবে পরিস্থিতির। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমষ্টিগতভাবে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু আবেগ দিয়ে নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে এবং বুঝতে হবে কেন এতদিন বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, আগে তো জীবনÑ তারপর শিক্ষা ও জীবনের সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মুক্তি। জীবন বিপন্ন করে কোনো সমৃদ্ধি স্থায়ী রূপ পেতে পারে না। তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব অনেক সফলভাবে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন, এটাকে অস্বীকার করার কোনো যুক্তি নেই। তবে তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্তের ফলে কোনো একটি জীবন যদি হুমকির সম্মুখীন হয়, তার চেয়ে বেদনার আর কিছুই থাকবে না এবং সেটি কাম্য হবে না। তাই আর কয়েকদিন অপেক্ষা করাটাকে অনেক ক্ষতি বিবেচনা করা নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক হবে। আবেগ বা তারুণ্যের উচ্ছ¡াস দিয়ে পরিস্থিতি বুঝলে হবে না।
জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, তড়িঘড়ি নয়, সিদ্ধান্ত নিতে হবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে। একবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যেন আবার বন্ধ করে দিতে না হয়, এশিয়ার অনেক দেশের মতো। পরিস্থিতি নিয়মিতই মনিটরিং করতে হবে। খোলার আগে অবশ্যই শিক্ষকদের সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে টিকার আওতায় নিতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের বয়স আঠারোর নিচে। আর শিশুদের টিকা তো এখনও আসেনি। তাদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে এবং তা পালনের বিষয়টিকে নিশ্চিত করতে বেশি উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের টিকার জন্য নিবন্ধন ও টিকা প্রদানের প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে। এখন যতদ্রæত সম্ভব শিক্ষকদের টিকা প্রদান ও টিকা গ্রহণের কাজ সম্পন্ন করাতে হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল সেন্টারগুলোকেও যদি টিকা সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত করা যায়, তবে টিকা প্রদান ও গ্রহণ আরও দ্রæত হতে পারে। বিশ^বিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার আগে সরকারকে অবশ্যই শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং আবাসিক হল খোলার আগে শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনতে হবে। রাজধানীর সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় আমার ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা থেকে মন উঠে গেছে। সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করে আর বাইরে খেলাধুলা করতে চায়। দীর্ঘদিনের পড়ালেখার এ গ্যাপ পূর্ণ করতে অনেক সমস্যা হবে। তাই আমি মনি করি বাচ্চাদের স্বাস্থ্যবিধিটা খেয়াল রেখে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হোক। আর স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, প্রথমেই সব শ্রেণির ক্লাস প্রতিদিন হবে না। প্রথমে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্বাদশ, মাধ্যমিক পর্যায়ের দশম ও প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন (সপ্তাহে ছয় দিন) ক্লাস হবে। আর স্কুল-কলেজ খোলার পর প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে এক দিন ক্লাস হবে। এ ছাড়া নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে দুদিন করে ক্লাস হবে। এরপর করোনা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ক্লাস শুরু হবে। 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]